ফিরে দেখা ১৫ জুলাই, তুর্কি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা

  


পিএনএস ডেস্ক: সাম্প্রতিক তুর্কি ইতিহাসে ২০১৬ সালের ১৫ জুলাইয়ের রাতটি এখনো অনেকের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। এদিন রাতে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলে সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান চালাতে ট্যাংক, কামান নিয়ে রাস্তায় নেমে আসলে ২৫০ জনেরও বেশি লোক নিহত এবং ২ হাজারেরও বেশি লোক আহত হন।

সৈন্যরা রাত ১টার দিকে ইস্তানবুলের বসফরাস ব্রীজ বন্ধ করে দিয়ে এর আশে-পাশে অবস্থান নেয়। তারা তুর্কি পার্লামেন্টে রকেট হামলা চালায়। বিদ্রোহীরা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান রাষ্ট্রীয় কাজে তখন ইজিয়ান প্রদেশে অবস্থান করছিলেন।

এ সময় প্রেসিডেন্ট এরদোগানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে আসেন। পুলিশের পাশাপাশি তাদের সঙ্গেও অভ্যুত্থানকারীদের রাতভর সংঘর্ষ চলে। ১৭ জুলাই শনিবার সকালেও দেশটির বড় বড় শহরে বিস্ফোরণ, গুলি ও সংঘর্ষ চলে।

কয়েক ঘণ্টা ধরে নৈরাজ্যকর অবস্থা চলার পর ওই দিন সকালে ইস্তাম্বুলের আতাতুর্ক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট এরদোগান। সেখানে দেওয়া ভাষণে তিনি পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানান। প্রেসিডেন্ট এরদোগান অভ্যুত্থানের পেছনে দেশটির ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের জড়িত থাকার অভিযোগ আনেন।

সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। বসফরাস সেতুর ওপর অবস্থান নেওয়া অভ্যুত্থানকারী সেনারা আত্মসমর্পণ করতে শুরু করে। এ সময় শত শত সেনার আত্মসমর্পণের দৃশ্য টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে। দুপুরের দিকে আঙ্কারায় নিজের কার্যালয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম বলেন, অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রায় তিন হাজার সেনাসদস্যকে আটক করা হয়েছে।

ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের পর অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তুর্কি সরকার। অভ্যুত্থানের পরপরই দেড় লাখের বেশি সরকারি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং আরো প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইজমিরের একটি আদালতে বিচারের মুখোমুখি হন ২৮০ সাবেক সেনা সদস্য। ১০৪ সাবেক সেনা সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরো ৫২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক খবরে বলা হয়েছে, ১০৪ সাবেক সেনা সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার পাশাপাশি প্রেসিডেন্টকে হত্যা চেষ্টার ষড়যন্ত্রে সহায়তার অভিযোগে ২১ জনের ২০ বছরের এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হওয়ার কারণে ৩১ জনের সাত এবং ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে দেশটিতে একটি শক্তিশালী নির্বাহী প্রেসিডেন্সি প্রতিষ্ঠার জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়। ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ওই গণভোটে নির্বাহী প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থার পক্ষে রায় দেয় দেশটির জনগণ। পরবর্তীতে এই রায়কে অনুসরণ করে চলতি বছরের ২৪ জুন অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে শক্তিশালী নির্বাহী প্রেসিডেন্সি ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং প্রথম শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট হিসেবে রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। -ডেইলি হুরিয়েত নিউজ অবলম্বনে

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech