ব্রিটেনের সর্ববৃহৎ সমরযান ভাসতে চলেছে প্রশান্ত মহাসাগরে - আন্তর্জাতিক - Premier News Syndicate Limited (PNS)

ব্রিটেনের সর্ববৃহৎ সমরযান ভাসতে চলেছে প্রশান্ত মহাসাগরে

  




পিএনএস ডেস্ক: পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে। প্রশান্ত মহাসাগরে ভাসানো হবে ব্রিটেনের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সমরযান। অস্ট্রেলিয়ান নেভির পাশাপাশি এটা অবস্থান করবে সাগরে।

গতকাল শুক্রবার স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে বৈঠকে বসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মারিস পেইন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ। সেখানে ছিলেন ব্রিটেনের ডিফেন্স সেক্রেটারি গ্যাভিন উইলিয়ামসন এবং ফরেন সেক্রেটারি জেরেমি হান্ট।

ব্রিটিশ রয়্যাল নেভি বানিয়েছে তাদের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস কুইন এলিজাবেথ। এটাকে প্রশান্তে ভাসানো নিয়ে বসেছিলেন তারা চারজন। ওই অঞ্চলে চীনের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার কারণেই দুই দেশের এই তৎপরতা। তবে এই পরিকল্পনা ২০২০ সালের আগে কার্যকর করা সম্ভব হবে না।

এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটেনের ডিফেন্স সেক্রেটারি উইলিয়ামসন জানান, এইচএমএস কুইন এলিজাবেথকে প্যাসিফিকে ভাসাতে তারা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন। আশা করা যায়, অস্ট্রেলিয়ার জাহাজগুলোর পাশাপাশি থাকবে ব্রিটিশ যুদ্ধযান।

'আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই যে, এই দুই দেশের বন্ধুত্বের বিষয়টি দুনিয়াবাসী দেখুক', যোগ করেন তিনি।

উইলিয়ামসন আরো বলেন, এইচএমএস কুইন এলিজাবেথের পানিতে ভাসার মাধ্যমে আসলে দক্ষিণ চীন সাগরে 'নৌচলাচলের স্বাধীনতা' বিয়ষক চর্চা চলবে। কিন্তু বেইজিং দক্ষিণ চীন সাগরে তাদের সার্বভৌমত্বের দাবি করে এবং সেখানে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতিকে 'বিরক্তিকর' বলে মনে করে।

উইলিয়ামসন এও জানান যে উত্তর আটলান্টিক এবং প্যাসিফিক সাগরে 'সাবমেরিনের হুমকি' বেড়ে চলেছে।

প্যাসিফিকের দেশগুলোতে নতুন দূতাবাস খোলার মাধ্যমে এ অঞ্চলে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে চায় ব্রিটেন। তারই অংশ হিসেবে প্রশান্তে যুদ্ধযান নামানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান দেশটির নয়া ফরেন সেক্রেটারি হান্ট।

তিনি আরো বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ট বন্ধুত্বের সম্পর্ক কেবল 'আমাকে খোঁচালে আমিও খোঁচাবো' টাইপের লেনদেনের সম্পর্ক নয়। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এটা অতি সাধারণ এক নীতি"।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান বিশ্বের এমন এক সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে দুই সমমনা দেশের একত্রিত হওয়া শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। ইন্দো-প্যাসিফিকে ব্রিটিশদের এই তৎপরতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় আমরাও খুব বেশি উৎফুল্লা নই'।

এ বছরের প্রথমদিকে ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শক মার্ক সেডউইল বলেছিলেন যে উচ্চ প্রযুক্তি ও ব্যয়বহুল যুদ্ধ মিশনে বন্ধুত্বপূর্ণ ফোর্স হিসেবে কাজ করবে কুইন এলিজাবেথ।

এ বছরই ইউকে তিনটি নেভি যুদ্ধযান নামিয়েছে প্রশান্তে। ২০১৩ সালের পর ব্রিটেনের এটাই প্রথম তৎপরতা।

আশা করা হচ্ছে, এই যুদ্ধযানে থাকবে 'ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ'। সাবমেরিন ধ্বংসে কয়েকটি ফ্রিগেট, বিমান হামলা ঠেকাতে ডেস্ট্রয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ার পানিতে শিকারী সাবমেরিন থাকবে। সূত্র: প্রেসটিভি

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech