অমিত শাহের বাবা-মায়ের জন্মের সনদ চাইলেন মমতা ব্যানার্জি

  

পিএনএস ডেস্ক :অাসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি ইস্যুতে ফের বিজেপি’কে তোপ দাগলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের সচিবালয় নবান্নে সংবাদ সম্মেলন করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে মমতা বলেন, ‘আমি অমিত শাহকে জিজ্ঞাসা করতে চাই যে তাঁর নিজের বাবা-মা’র আদৌ জন্মের সনদ আছে কি? আমি জানি যে আমার বাবা-মা’য়ের কোন জন্ম সনদ নেই। স্বামী বিবেকানন্দের কি জন্ম সনদ আছে? অটল বিহারী বাজপেয়ী অসুস্থ আছেন, তাই আমি তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারছি না। কিন্তু আমারও ইচ্ছা যে অটল জি’রও সমস্ত সনদ আছে কি না তা জানার। আসলে আগেকার দিনের খুব অল্প মানুষ রয়েছেন যাঁরা তাদের বাবা-মা বা পূর্ব পুরুষের জন্মের সনদ রেখে দিয়েছেন। আগামী দিনে মহাত্মা গান্ধীর পরিবারও যদি এই সনদ দেখাতে ব্যর্থ হয় তবে গান্ধীজিও প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক কিনা তার প্রমাণ দিতে হবে। এমনকি গরুরও জন্মের সনদ তৈরি করা উচিত, না হলে তাদেরও একদিন দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।’

মমতা আরও বলেন, আমি যদি পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ না করতাম তবে তারাও আমাকে আমার ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলতো।

এদিনের সংবাদ সম্মেলন থেকে মমতা অভিযোগ করেন, ‘জাতীয় নাগরিক পঞ্জি খসড়ার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৪০ লাখের মধ্যে ৩৮ লাখ বাঙালির নাম বাদ গেছে। এর মধ্যে ২৫ লাখ হিন্দু বাঙালি ও ১৩ লাখ মুসলিম বাঙালি রয়েছে। বাকি ২ লাখ হিন্দিভাষী, নেপালি সব মিলিয়ে রয়েছেন।’

বিজেপিকে সরাসরি নিশানা করে মমতা বলেন, ‘নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই বিজেপি এই ধরনের নাগরিক পঞ্জির তালিকা তৈরি করেছে। আগে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ একত্রিত ছিল। কিন্তু দেশ ভাগের পর পাকিস্তানের লোকেরা পাঞ্জাব, রাজস্থানে যায়। বাংলাদেশের লোকেরা পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অাসামে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যারা এখানে বসবাস করছে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেইসব ভারতীয় নাগরিকদের কখনও শরণার্থী, আবার কখনও অনুপ্রবেশকারী বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’

মমতার অভিযোগ, ‘অনুপ্রবেশকারী বলে ভারতীয় নাগরিকদের অসম্মান করার প্রচেষ্টা চলছে। সেখানে কাউকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। যেকোন মুহূর্তে তাদের ধরে নিয়ে ডিটেশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই অাসামে প্রকাশিত হয় জাতীয় নাগরিক পঞ্জির (এনআরসি) চূড়ান্ত খসড়া তালিকা। এনআরসি’এর কাছে জমা পড়া ৩.২৯ কোটি আবেদনকারির মধ্যে চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ২.৮৯ কোটির কিছু মানুষের নাম। তালিকা থেকে বাদ পড়ে প্রায় ৪০ লাখ বাসিন্দা। এরপর বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক সমস্যা চলছে। এই ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি সরব হয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। তাঁর আশঙ্কা কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীতির কারণে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে রক্তগঙ্গার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

সেই পরিস্থিতিতেই গত ১১ আগষ্ট কলকাতা সফরে এসে অমিত শাহ মমতাকে তোপ দেগে বলেন ‘আমি মমতা দিদিকে বলতে চাই যে তিনি কেন অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছেন। তিনি যতই আপত্তি করুন এনআরসি’র কাজ থমকে থাকবে না। আমরা দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করবই।’


পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech