গায়ে আগুন দিয়ে ইরানি নারী ফুটবল ভক্তের আত্মহত্যা

  

পিএনএস ডেস্ক: ইরানি নারী ফুটবল ভক্ত সাহার খোদায়ারি (২৯) খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন পুরুষের বেশে। আইন না থাকায় তাকে জেলে ঢোকাতে 'সঠিকভাবে হিজাব পরেননি' অভিযোগ আনা হয়েছে! এই আধুনিক যুগে মানুষ যখন মঙ্গলগ্রহে আবাস স্থাপনের চেষ্টা করছে, সেখানে এমন পশ্চাতপদ কিছু চিন্তা করাটাই কঠিন।

২৯ বছর বয়সী প্রতিবাদী সেই মেয়েটির নাম সারা। কিন্তু এই ঘটনার পর সারাকে ইরানে 'দ্য ব্লু গার্ল' ডাকা হচ্ছে। কারণ তাঁর প্রিয় দল ছিল তেহরানের এস্তেঘলাল ফুটবল ক্লাব। এ ক্লাবের নীল রঙ্গের সঙ্গে মিল রেখেই এই ফুটবল ভক্তকে ডাকা হচ্ছে 'নীল কন্যা' বলে। গত ১২ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন ক্লাবের সঙ্গে ম্যাচ ছিল এস্তেঘলালের। মহাদেশিয় পর্যায়ের এ খেলা দেখার জন্য আজাদি স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সরকার নিযুক্ত মরালিটি পুলিশ তাঁকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে কারচাক জেলে পাঠানো হয়।

সারা বোন গণমাধ্যমকে জানান, 'বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার' নামের এক জটিল মানসিক অবস্থার শিকার হয়েছিলেন সারা। জেলে থাকায় তার ওই রোগের আরও অবনতি হয়। এক পর্যায়ে আইনী লড়াই শেষে জামিনে বের হন সারা। গত ১ সেপ্টেম্বর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁর জব্দ মোবাইল ফেরত নিতে গিয়ে সারা জানতে পারেন, শাস্তি এখনো শেষ হয়নি। আবার ছয় মাসের জন্য জেলে যেতে হবে তাঁকে। এ কথা শুনে ক্ষুব্ধ সারা কোর্ট হাউসের সামনে গায়ে তেল ঢেলে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেন।

দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও সারাকে বাঁচাতে পারেননি ডাক্তাররা। কারণ সারার দেহের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ডাক্তারদের লড়াই ব্যর্থ করে দিয়ে আজ মঙ্গলবার সারা পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। তার এই আত্মবলিদানের পর শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে ইরানে। কিছুদিন আগেই ফিফা ইরানকে অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়েছে মাঠে নারী দর্শকদের আগমন নিশ্চিত করার। এরপর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মেয়েরা খেলা দেখতে পারবে মর্মে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী। কিন্তু কথিত 'মরাল পুলিশ' কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech