পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি আতঙ্ক, পাশে থাকার বার্তা মমতার

  


পিএনএস ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে কোনভাবেই জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) চালু করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, কঠোর অবস্থান গ্রহণ করুন না কেন, এই ইস্যুকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্রমশই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আত্মহত্যা, মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।

শুক্রবার রাজ্যটির জলপাইগুড়ি জেলায় একটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় রেশন কার্ড সংশোধন করার লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। দুইটি পরিবারের সদস্যরাই দাবি করেছেন যে এনআরসি চালু হওয়ার সম্ভবনা থেকেই তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হওয়াতেই তারা প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রশাসন সূত্রে খবর, এদিন সকালের দিকে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির বাসিন্দা আনন্দ রায়ের লাশ ঝুলতে দেখা যায় স্থানীয় একটি রেলওয়ে লেভেল ক্রসিংয়ের কাছে। আনন্দের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, যে এনআরসি চালু হলে ভারতের নাগরিকত্ব হারাতে হতে পারে-এই ভেবে কয়েকদিন ধরেই তিনি আতঙ্কগ্রস্ত ছিলেন। কারণ জমির দলিলসহ একাধিক নথি তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।

অন্যদিকে, বালুরঘাটের ৫২ বছর বয়সী মন্টু সরকার রেশন কার্ড সংশোধনের জন্য এদিন বালুরঘাট ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিস (বিডিও)-এ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ করেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা দেয়া হয়। মন্টর পরিবারের লোকেরাও জানিয়েছেন এনআরসি আতঙ্ক তাকেও তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। আর সেই কারণেই নিজের রেশন কার্ডে সংশোধনের জন্য এদিন বিডিও অফিসে যান।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট আসামে এনআরসি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পায়। তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ১৯ লাখের বেশি নাম। তালিকায় অন্তর্ভুক্তি হয়েছে ৩ কোটির কিছু বেশি নাম। আসামের মত পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি চালুর দাবি জানিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই সরব হয়ে আসছে বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষসহ কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়-প্রত্যেকেই স্পষ্ট করেছেন যে রাজ্যে ক্ষমতায় আসলেই এখানেও এনআরসি চালু করা হবে।

সম্প্রতি শেষ হওয়া লোকসভার নির্বাচনী প্রচারণেও গেরুয়া শিবিরের নেতারা এই দাবির স্বপক্ষে ঝড় তুলেছিলেন। যদিও এনআরসি চালু করার ব্যাপারে সরকারি ভাবে এখনও কিছুই ঘোষণা করা হয় নি। তবু আসামের আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে বাংলাতেও। নাগরিকত্বের প্রশ্নে প্রমাণ বা নথি সংগ্রহের তাগিদে গতকয়েক দিন ধরেই রাজ্যটির বিডিও অফিস, পুরসভা, কর্পোরেশন, ব্যাংক, পোস্ট অফিস-এ ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

এদিকে এই মৃত্যুর পরই মমতা ব্যনার্জি দুঃখ প্রকাশ করে মৃতদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।

দিল্লি থেকে ফিরে এদিন রাতে নবান্নে রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আমি রাজ্যের মানুষকে আশ্বস্ত করে বলতে চাই যে, আপনারা যদি আমার ওপর বিশ্বাস রাখেন, ভরসা রাখেন তবে কেউ আতঙ্কগ্রস্ত হবেন না। এ রাজ্য ছেড়ে কোথাও চলে যেতে হবে না। বিগত বছরগুলোতে যেভাবে এ রাজ্যে বসবাস করছিলেন ঠিক সেভাবেই ভবিষ্যতেও থাকবেন। আপনারা কেবল ভোটার তারিকায় আপনাদের নামটা তুলে রাখবেন। আর কিছু দরকার নেই।’

তার অভিযোগ ‘এটা বিজেপির রাজনৈতিক হাতিয়ার। কয়েকজন স্থানীয় নেতারাই এটা অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে, আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কিন্তু এটা মনে রাখবেন যে আপনাদের স্পর্শ করার আগে মমতার গায়ে হাত দিতে হবে। আমি আপনাদের পাহারাদার আছি, ছিলাম, থাকবো। তবে অতীতের মমতা ব্যনার্জিকে তারা দেখতে পাবে।’

মমতার অভিমত ‘বাংলায় এনআরসি নিয়ে কোন কথা হয়নি, হবে না। আমরা বাংলায় এনআরসি করতে দেবো না। সারা দেশেও হবে কি না সন্দেহ আছে কারণ বিহার বলে দিয়েছে তারা এটা মেনে নেবে না।’

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech