তুর্কিদের মোকাবেলায় এবার ইসরাইলের দ্বারস্থ কুর্দিরা

  


পিএনএস ডেস্ক: সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তুরস্কের ব্যাপক সেনা অভিযানের পর এবার যুদ্ধবিরতি চলছে। যদিও এরই মধ্যে অঞ্চলটি থেকে তুর্কি সেনাদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে অঞ্চলটির ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের শরণাপন্ন হয়েছে সিরিয়ান কুর্দি বিদ্রোহীরা। সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিরিয়ার সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন কুর্দিদের এখন ভরসা ইসরাইল। তাই ইহুদিরা তাদের কোনোমতে অবহেলা করবে না। গোষ্ঠীটির দাবি, তুরস্কের চলমান সামরিক অভিযানে নারী ও শিশুদের ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে অস্ত্রবিরতির ঘোষণার পরও সীমান্তে কুর্দিদের সাখে তুরস্ক লড়াই অব্যাহত রেখেছে। মার্কিন সমর্থিত সংগঠন এসডিএফ ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে ছিল। যদিও তুরস্ক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বর্তমানে তাদেরকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে মনে করছে।

সিরিয়ার কুর্দি গেরিলাদের সংগঠন এসডিএফের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ইহুদি জনগণ কুর্দিদের ভালোর জন্য বর্তমান বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে এগিয়ে আসবে। আশা করছি, তুর্কিদের হাত থেকে আমাদের রক্ষায় তারা কোনো ধরনের অবহেলা করবে না।’ এ দিকে গত ১০ অক্টোবর কুর্দি বিদ্রোহীদের ওপর সামরিক অভিযান চালানোয় তুরস্কের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যেখানে তিনি সিরিয়ায় চলমান অভিযানে ‘মানবিক’ কারণে কুর্দিদের সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। নেতানিয়াহুর ভাষায়, ‘সিরীয় ভূখণ্ডে কুর্দিদের জাতিগত নিধনে তুরস্ক ও তাদের সহযোগীদের চলমান আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে ইসরাইল। সুযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যথাযথ জবাব দেয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সম্পূর্ণ মানবিক কারণে সহযোগিতার জন্য সাহসী কুর্দি জনগণের পাশে রয়েছে ইসরাইল’।

সিরিয়ার সীমান্ত শহর ত্যাগ কুর্দি বাহিনীর
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়ার সীমান্ত শহর রাস আল আইন থেকে যোদ্ধাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) জানিয়েছে। রোববার এসডিএফ এ কথা জানালেও প্রত্যাহার সম্পূর্ণ হয়নি বলে তুরস্ক সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীদের এক মুখপাত্র পাল্টা দাবি করেছেন।

তুরস্ক-সিরিয়ার সীমান্তসংলগ্ন সিরীয় এলাকাগুলো থেকে কুর্দি যোদ্ধাদের হটিয়ে দিয়ে সেখানে একটি ‘সেইফ জোন’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছে তুরস্ক। এই লক্ষ্যে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তারা। তুরস্ক ‘সেইফ জোন’ সীমান্ত থেকে সিরিয়ার ভেতরে ৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার কথা। এই অঞ্চলের যে দু’টি সীমান্ত শহরকে প্রধান লক্ষ্যস্থল করেছে তুরস্ক রাস আল আইন তার একটি।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের বৈঠকের পর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় তুরস্ক। বৃহস্পতিবার রাত থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি শেষে ওই সেইফ জোন এলাকায় এসডিএফের কোনো উপস্থিতি থাকলে তুরস্ক ফের আক্রমণ শুরু করবে বলে সতর্ক করেছেন এরদোগান। রাস আল আইনের কথা উল্লেখ করে এসডিএফের মুখপাত্র কিনো গ্যাব্রিয়েল বলেছেন, শহরটিতে আমাদের আর কোনো যোদ্ধা নেই। এর আগে আঙ্কারা জানায়, রাস আল আইনে কয়েক ডজন গাড়ি প্রবেশ করার পর আবার ফিরে গেছে। তুরস্কের বাহিনীগুলো ও তাদের সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীরা প্রায় চার দিক থেকে শহরটি ঘিরে রেখেছে। কিন্তু রাস আল আইন থেকে এসডিএফ ‘এখনো পুরোপুরি সরে থযায়নি’ বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তুরস্ক সমর্থিত বিদ্রোহীদের মুখপাত্র মেজর ইউসেফ হামৌদ।

তুরস্কের সিরিয়া সীমান্ত এলাকা থেকে কুর্দি বিদ্রোহীদের সরে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। রোববার ইস্তাম্বুলে ধূমপানবিরোধী এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। এরদোগান বলেন, আঙ্কারার প্রত্যাশা উত্তর সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র ওয়াইপিজি/পিকেকে সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নেবে। অন্যথায় তুরস্ক ফের অভিযান শুরু করবে। আশা করি আমাদের আমেরিকার মিত্ররা এবার তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। তুর্কি অভিযানে সিরিয়ায় ৭৬৫ ওয়াইপিজি/পিকেকে সন্ত্রাসীকে নিবৃত্ত করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের কবল থেকে দেড় হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র : টাইমস অব ইসরাইল ও রয়টার্স।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech