প্রতি বছর শীত এলেই আসবে করোনা ভাইরাস?

  

পিএনএস ডেস্ক:প্লেগ, ইনফ্লুয়েঞ্জা, যক্ষা, জিকা ভাইরাস, ইবোলা, মেনিনজাইটিস, চিকুনগুনিয়া, গুটিবসন্ত, মের্স, কলেরা, ইয়েলো ফিভার, সার্স- একুশ শতকের শুরুর দুই দশকেই বিশ্বের ওপর দিয়ে ধেয়ে গেছে বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতি এসব মহামারি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এক জরিপে জানিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল, এই ৭ বছরেই গোটা দুনিয়ায় সব মিলিয়ে ১ হাজার ৩০৭টি মহামারি ঘটেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ও ভয়ঙ্কর ছিল উপরের নামগুলো।

সম্প্রতি চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনা ভাইরাসে কাঁপছে গোটা দুনিয়া। চীনসহ বিশ্বের দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এ ভাইরাসের সংক্রমণ। ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩৪ হাজার লোকের প্রাণহানি হয়েছে। জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও কয়েক লাখ মানুষ। দেখতে দেখতে গত এক মাসের ব্যবধানে করোনা ভাইরাসে গোটা পৃথিবীকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে।

তারচেয়েও আরও ভীতিকর তথ্য এবার সামনে এনেছেন মার্কিন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ-এর গবেষক ও বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, ডেঙ্গু ম্যালেরিয়ার মতোই বছর বছর পৃথিবীর ফুসফুসে ছোবল বসাবে করোনা ভাইরাস? অর্থাৎ এখন থেকে প্রতিবছরই করোনা ভাইরাস আসবে!

গবেষক দলটির মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনা ভাইরাসের টিকা ও চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করা না গেলে প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে এই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে করোনা ভাইরাসের ওষুধ চীন ও আমেরিকায় রোগীদের শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তবে ভাইরাসটির ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে অন্তত বছরখানেক সময় লাগবে বলে জানানো হচ্ছে। ফলে আগামী বছর শীতে আবারও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনা সংক্রমণ! যুক্তরাষ্ট্রের সরকারিভাবে সংক্রামক রোগের গবেষণায় নেতৃত্বদানকারী অ্যান্টনি ফাউচি নিজেও এমন ধারণাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তিনিও অবিলম্বে করোনার ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

গেল ২৪ মার্চ ফাউচি জানান, তারা গবেষণায় দেখেছেন, মূলত শীতের সময়েই এ ভাইরাস অতিমাত্রায় ছড়িয়ে পড়ে। এবারও আফ্রিকার দক্ষিণ অংশে ও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে শীতের সময়েই এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। এটার ভিত্তি যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে আগামী শীতের আগে আমাদের প্রস্তুত থাকতেই হবে।

ফাউচি কাউকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এবং আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘আমরা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আস্থা রাখুন। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই অন্তত আগামী শীতের আগেই ভ্যাকসিন চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’

ক’দিন আগেই মানবদেহে করোনার প্রতিষেধক টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চালায় আমেরিকা। চীনেও এ প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। কানাডা এরইমধ্যে ৪টি সম্ভাব্য প্রতিষেধক নিয়ে ২০টি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় কাজ শুরু করেছে। ওই ৪ প্রতিষেধকে ভরসা রেখে বিশ্বের সব খ্যাতনামা হাসপাতালগুলোও চিকিৎসায় অংশ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া ড্রাগ ক্লোরোকুইন এবং হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের সফলতা নজরে এসেছে মার্কিন গবেষকদের।

তবে সর্বোপরি আশার কথা হচ্ছে, শীত এলেই যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে এমন কোনও নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত গবেষক ও বিজ্ঞানীরা এ নিয়ে শুধুমাত্র আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন