মিসরে করোনা নিয়ে মুখ খোলায় চিকিৎসক ধরপাকড়

  

পিএনএস ডেস্ক : মিশরে করোনাভাইরাস নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় চিকিৎসকদের ওপর ধরপাকড়ের অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছেন সাংবাদিকরাও। বিশ্লেষকদের দাবি, দেশটিতে ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও করোনা নিয়ে সঠিক তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কাতেই তাদের মুখ বন্ধ রাখতে চাইছে দেশটির সরকার।

বুধবার (৮ জুলাই) তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনে যতজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে দেশটিতে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন চিকিৎসক ও ছয় জন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদেরও মুখ না খুলতে শাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। হয় মুখ বন্ধ রাখা কিংবা শাস্তির মুখোমুখি হওয়া; এ দুইয়ের মধ্যে যেকোনও একটিকে বেছে নিতেও বলেছে।

সম্প্রতি মিসরের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে একটি নিবন্ধ লেখার পর একজন চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়। সুরক্ষা সরঞ্জামের ঘাটতি নিয়ে অনলাইনে পোস্ট করার পর একজন ফার্মাসিস্টকে তার কাজ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের সন্দেহজনক একটি ঘটনায় রিপোর্ট করতে একজন নারী চিকিৎসকের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেছিলেন তার এক সহকর্মী। পরে ওই নারী চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তিনি গর্ভবতী ছিলেন।

করোনাভাইরাসের অফিসিয়াল পরিসংখ্যান জানতে চাওয়ার পর দেশটির একজন পত্রিকার সম্পাদককে তার বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও চলমান ধরপাকড়ের বাস্তবতায় একজন বিদেশি সাংবাদিক মিসর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। অন্য দুই সাংবাদিককে ‘পেশাদারিত্ব লঙ্ঘনের’ দায়ে তিরস্কার করা হয়েছে।

কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন, ‘প্রতিদিন আমি নিজেকে ও নিজের পরিবারকে বিসর্জন দিয়ে কাজে যাই।’ তবে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার ফলে কর্তৃপক্ষের প্রতিশোধপরায়ণতার শিকার হতে পারেন; এমন আশঙ্কায় নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

আরেক চিকিৎসক বলেন, আমাদের একটা বার্তা দিতে তারা আমাদের সহকর্মীদের গ্রেফতার করে। আমরা কোনও আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না।

প্রসঙ্গত, শুধু সরকারি হিসাবেই মিসরে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬ হাজার ২৫৩। এরমধ্যে তিন হাজার ৩৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরব বিশ্বের কোনও দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ। এমন পরিস্থিতিতে স্বভাবতই দেশটির হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ ক্রমেই আরও বাড়ছে।

পিএনএস-জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন