রোজায় যা পালনীয় ও বর্জনীয় - ইসলাম - Premier News Syndicate Limited (PNS)

রোজায় যা পালনীয় ও বর্জনীয়

  

পিএনএস ডেস্ক: রমজান মাস অফুরন্ত রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও ফজিলতপূর্ণ মাস। তাই এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তের সদ্ব্যবহার করা একজন বুদ্ধিমান মুমিন বান্দার অবশ্য কর্তব্য। নবী করিম (সা.) রমজান মাসে দিনে রোজা রাখতেন আর রাতে দীর্ঘক্ষণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন। সাহাবায়ে কেরামও রমজান মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সমাজের অনেককেই দেখা যায় রমজানের সিয়াম সাধনার পাশাপাশি কতিপয় ভ্রান্তিপূর্ণ কাজে লিপ্ত থাকতে। যা সিয়াম সাধনার মর্মার্থ ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বরং সাংঘর্ষিক। নিম্নে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলো, যা থেকে রোজাদারদের বেঁচে থাকা প্রয়োজন।

অনেকের কাছেই রোজা আধ্যাত্মিকতা হারিয়ে ফরজ ইবাদতের বদলে একটি প্রথাগত অনুষ্ঠানের রূপলাভ করেছে। এটা অনুচিত ভাবনা ও ধারণা। রোজা হলো, আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য, আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য। রমজানে ইবাদত-বন্দেগির বদলে অনেকের চিন্তাভাবনাজুড়ে থাকে শুধুই ‘খাওয়া-দাওয়া’। সেহরি ও ইফতারে তারা এমনভাবে খায়, মনে হয় আগামীকাল বলে কিছু নেই। আলেমরা বলেন, অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ একজন মানুষকে আবশ্যকীয় অনেক আমল এবং ইবাদত থেকে দূরে সরিয়ে নেয়, তাকে অলস করে তোলে এবং অন্তরকে বধির করে ফেলে।

পরিবারের সদস্যদের জন্য অনেক নারী রোজা উপলক্ষে বেশি বেশি রান্নাবান্না করে থাকেন। ফলে দিনের শেষে তারা এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েন যে, এশা ও তারাবির নামাজ পড়তে পারেন না, তাহাজ্জুদ কিংবা কোরআন তেলাওয়াতের কথা না-ই বললাম! অথচ এ রমজান হলো মুক্তিপ্রাপ্তির মাস।

রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত অত্যন্ত মূল্যবান সময়। এমতাবস্থায় অনেকেই রোজা রেখে সারাদিন ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়, যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। রোজাদারের জন্য উচিত হলো, রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যয় করা। যাতে করে এ মাসের সর্বোচ্চ সওয়াব অর্জিত হয়।

রোজা অবস্থায় খারাপ কাজ ত্যাগ না করা। অনেক রোজাদার রোজা রেখে মিথ্যাচার, সুদ-ঘুষের লেনদেন, মারামারি, গিবত, প্রতারণা, অফিস ফাঁকি ইত্যাদিসহ ইসলাম অনুমোদন করে না, এমন সব কাজ বর্জন করে না। এমন রোজাদারের রোজা আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।

ইচ্ছাকৃতভাবে সেহরি না খাওয়া কিংবা অনেক আগেই সেহরি খাওয়া বন্ধ করে দেয়া কোনোটাই ঠিক নয়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সেহরি খাও, কারণ এর মধ্যে বরকত রয়েছে।’ অনেকেই আবার সেহরি খেতে না পারার অজুহাতে রোজা রাখেন না। অনিচ্ছাকৃতভাবে সেহরি খেতে না পারলে তার জন্য সেহরি না খেয়েই রোজা রাখার অনুমতি আছে। ইচ্ছাকৃতভাবে অভ্যাশবশত সেহরি না খাওয়াকে দূষণীয় বলা হয়েছে।

ইফতার করতে দেরি করা ঠিক নয়। অনেকেই ইফতারের সময় মাগরিবের আজান শেষ হওয়া পর্যন্ত বসে থেকে আজান শেষ হলে রোজা ভাঙেন। অথচ সূর্য অস্ত যাওয়ার পর আজান দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোজা ভাঙা সুন্নত। হজরত আনাস (রা.) বলেন, ‘হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এটাই করতেন। অনেকেই আবার ইফতারে সময় বেশি ব্যয় করে ফেলেন। ফলে মাগরিবের নামাজে জামায়াতে শরিক হতে পারেন না। এটাও অনুচিত।

দোয়া কবুলের মুহূর্তগুলোতে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকা। রোজা পালনকারী ব্যক্তির দোয়া ইফতারে কবুল হয়ে থাকে বলে হাদিসে ঘোষণা রয়েছে। অথচ এই সময়ে দোয়া না করে খাবার পরিবেশন, কথাবার্তা ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকে লোকজন, যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশকে নষ্ট করে।

পরীক্ষা কিংবা কর্মব্যস্ততার জন্য রোজা না রাখা শরিয়তসম্মত নয়। পড়ালেখা করার মধ্য দিয়ে যদি সঠিকভাবে রোজার মতো ফরজ কাজগুলো করার চেষ্টা করা হয়, ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তা সহজ করে দেবেন এবং সাহায্য করবেন।

স্বাস্থ্য কমানোর জন্য রোজা রাখা। অনেকেই রোজা রেখে বিভিন্নজনের কাছে বলে বেড়ায়, স্বাস্থ্য কমানোর জন্য রোজা রাখছি। এটি একটি মারাত্মক ভুল। রোজা পালনের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।

২৭ রমজানের রাতকেই শুধু শবেকদর মনে করে ইবাদত করার প্রবণতা ভুল। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করো।’

ঈদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে রমজানের শেষাংশ অবহেলা করা ঠিক নয়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন আল্লাহর ইবাদতে খুব বেশি সময় নিমগ্ন থাকতেন। রমজান শুরু হওয়ার আগে কিংবা দিনে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে কেনাকাটা শেষ করা উচিত।

পিএনএস/আলআমীব

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech