মুসলমানের ছেলে টুপি মাথায় দিয়ে মসজিদে যেতে বাধা কোথায়?

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : ‘শিশু/বাচ্চাদের নিয়ে মসজিদে প্রবেশ নিষেধ’ এ রকম ব্যানার লিখে বাচ্চাদের মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে উত্তরা ১০ নং সেক্টর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। এ নিষেধাজ্ঞার ব্যানার ফেসবুকে ভাইরাল হলে এর সমালোচনা বাড়তে থাকে। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

বাচ্চাদের মসজিদে আসতে বাধা দেওয়া কোনোমতেই উচিত নয়। বরং তাদের মসজিদে আসতে উৎসাহব্যাঞ্জক কার্যক্রম গ্রহণ করা অধিক যুক্তিযুক্ত। বাচ্চারা মসজিদে না এলে আগামী দিনে মসজিদে মুসল্লির সংকট দেখা দিতে পারে। ফলে বাচ্চাদের মসজিদমুখী করতে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগী ভূমিকা রাখা সময়ের দাবি।

উত্তরায় মসজিদে ব্যানার লিখে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, এটা যারা করেছেন তারা হয়তো বিষয়টি ভেবে দেখেননি। যদিও বাচ্চাদের হইচই-চিৎকার-চেঁচামেচির কারণে তারা ওই সিদ্ধান্ত নেন। যে সিদ্ধান্ত সচেতন মুসলমানরা মেনে নিতে পারেননি। ফলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে বাধ্য হয় মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

বাচ্চারা মসজিদে যাবে ঠিক আছে, তারা তাদের মতো স্বাভাবিক আচরণ করবে; সেটাও ঠিক আছে। তবে অভিভাবকদের উচিত তাদের বাচ্চাদের নিবৃত্ত করা। বুঝিয়ে নীরব থাকার পরামর্শ দেওয়া। বড়দের অনুসরণের কথা বলা। হইচই-চিৎকার-চেঁচামেচির করতে বারণ করা। এটা বোঝানো যে মসজিদ এবাদতখানা। এটা খেলাধুলা-হইচই-চিৎকার-চেঁচামেচির জায়গা নয়।

শিশুরা দেখে শেখে। আর একবার শেখালে তো কথাই নেই। বুঝাতে পারলে তারা বাধ্য ছেলে। ব্যানারে বরং অভিভাবকদের জন্য ওইরকম সতর্ক বার্তা থাকা উত্তম ছিল। বাসাবাড়ি থেকে বাচ্চাদের আনার সময় সুন্দরভাবে মৃদুস্বরে মসজিদের নিয়ম তাদের বুঝিয়ে দেওয়া শ্রেয়। একবার বুঝে গেলে তারা অভিভাবকদের সবক দেবে বৈকি। তাদের এও বলুন যে, কথা না বলে নীরবে খোতবা শুনতে হয়। নীরব থাকলে তাদের পুরস্কার দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে সমজিদ কর্তৃপক্ষ চকোলেটের ব্যবস্থা রাখতে পারে বৈকি। আগেই বলতে হবে দুষ্ঠুমি করলে চকোলেট পাবে না।

মূল কথা হলো, শিশুদের মসজিদে আনার জন্য চকোলেট-জাতীয় কিছু হাতে দিয়ে উৎসাহ দেওয়া উচিত। আগে আমরা মসজিদে যেতাম যতটানা নামাজ পড়তে, তার চেয়ে বেশি বাতাসা, জিলাপি ও সিন্নি খাওয়ার জন্য। কলাপাতায় সিন্নি দেওয়া হতো। শিশুদের বলতে হবে, কথা না বললে, নীরবে মসজিদে নামাজ আদায় করলে তাদের চকোলেট-জিলাপি দেওয়া হবে। এতে টনিকের মতো সুফল মিলবে।

আমাদের মনে রাখতে হবে, কামারের ছেলে যদি হামার ধরতে পারে, কৃষকের ছেলে যদি নাঙ্গল ধরতে পারে, নাপিতের ছেলে যদি কাঁচি দিয়ে চুল কাটা শিখতে পারে, ভ্রাহ্মণের ছেলে যদি পৈতা গলায় দিয়ে মন্দিরে যেতে পারে- মুসলমানের ছেলে টুপি মাথায় দিয়ে মসজিদে যেতে বাধা কোথায়?

আজকে আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় যে ধস নেমেছে, তা রোধে শিশুদের মসজিদমুখী করা অবশ্য কর্তব্য। কেননা মসজিদে যাওয়া-আসা করা শিশুর মনে অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে শুরু করে সহজে কোনো পাপাচার ঠাঁই পাবে না। এই শিশুরা কখনো নাগপাশে যাবে না মাদকের। হবে না কখনো জঙ্গী। ফলে শিশুরা যত বেশি মসজিদমুখী হবে, আমাদের সমাজটা ততবেশি বাসযোগ্য হবে। হবে শান্তির নীড়।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech