মানবতাবিরোধী অপরাধে ২ জনের ফাঁসি, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

  


পিএনএস ডেস্ক : মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার পাঁচজনের মধ্যে নেসার আলী ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড এবং শামসুল হোসেন তরফদার, মোবারক মিয়া ও ইউনুস আহমেদকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর প্রসিকিউটর সুলতান আহমেদ শিমন জানান, রায় ঘোষণার সময় সাজাপ্রাপ্ত ওজাযের আহমেদ চৌধুরী ও ইউনুস আহমেদ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকীরা পলাতক রয়েছেন।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এ দণ্ড দেয়া হয়েছে।

এর আগে ১০টা ৫০ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রায় পড়া শুরু হয়। মোট ২০২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের সংক্ষিপ্তসার পড়েন আদালত।

এর আগে মঙ্গলবার চেয়ারম্যান বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২০ নভেম্বর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। এই মামলার ৫ আসামি হলেন- শামসুল হোসেন তরফদার, মোবারক মিয়া, নেসার আলী, ইউনুস আহমেদ ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী। ইউনুস আহমেদ ও ওজায়ের আহমেদ চৌধুরী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন, বাকিরা পলাতক।

২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সীমন, রেজিয়া সুলতানা সমন ও আবুল কালাম আজাদ। আসামিপক্ষে ছিলেন গাজী এম এইচ তামিম।

২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে সেদিন বিকেলেই রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীকে (৬০) মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা থেকে ও সোনাটিকি গ্রামের মৌলভী ইউনুছ আহমদকে (৭০) তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর এ তদন্ত শুরু হয়।

প্রসঙ্গত,প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সোমবার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এ সময় দুই আসামি ইউনুছ ও ওজায়ের ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজনগরের ওই পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের পাঁচ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ জনকে হত্যা-গণহত্যা, ১১ জনকে অপহরণ, আটক ও নির্যাতন এবং ২২টি বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ।

গত সোমবার (২০১৭,২০ নভেম্বর) প্রসিকিউশন পক্ষে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ শিমন, তাপস কান্তিবল ও রেজিয়া সুলতানা চমন। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি (ফাঁসি) প্রার্থনা করেন।

অপরদিকে আসামি ইউনুস ও ওজায়েরের পক্ষে ছিলেন আবদুস সোবহান তরফদার এবং পলাতক তিন আসামির পক্ষে ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।

প্রসিকিউটর তাপস সমকালকে জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রসিকিউশন সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণ করতে পেরেছে। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর ওই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর পর গত বছর ২৬ মে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই বছর ৮ ডিসেম্বর এই ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়। প্রসিকিউশন পক্ষে ১৩ জন সাক্ষী-জবানবন্দি দেন। আসামিদের পক্ষে কোন সাফাই সাক্ষী ছিল না।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলে ওই দিনই রাজনগর উপজেলার গয়াসপুর গ্রামের ওজায়ের আহমেদ চৌধুরীকে মৌলভীবাজার শহরের চৌমোহনা থেকে ও সোনাটিকি গ্রামের মৌলভি ইউনুছ আহমদকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিদের মধ্যে সামছুল হোসেন তরফদার একাত্তরে আল-বদর বাহিনীর এবং নেছার আলী রাজাকার বাহিনীর স্থানীয় কমান্ডার ছিলেন। বাকি তিনজন রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত ছিলেন।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech