খালেদা জিয়ার জামিনে স্থগিতাদেশ দেননি চেম্বার বিচারপতি

  


পিএনএস ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ব্যাপারে কোনো স্থগিতাদেশ দেননি চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

চেম্বার বিচারপতি আবেদনটি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়টি শুনানির জন্য আগামীকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পূণাঙ্গ বেঞ্চের কার্যতালিকায় এক নম্বরে থাকবে।

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম এবং দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান শুনানি করেন।
অপরদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী ও সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন।

আদেশের পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব উদ্দিন খোকন জানিয়েছেন, চেম্বার বিচারপতি জামিন আদেশে স্থগিতাদেশ না দেয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন বহাল থাকছে।

গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে এ মামলায় জামিন দেন।

রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তাৎক্ষণিকভাবে রায়টি দুই দিনের জন্য স্থগিত রাখার আবেদন জানালে আদালত তা নামঞ্জুর করে দেন।

জামিন আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, তারা আগামীকালই (আজ মঙ্গলবার) এ জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর আদালতে আবেদন করবেন।

পরে আজ মঙ্গলবার সকালে দুর্নীতি দমন কমিশন ওই জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন।

এর শুনানি শেষে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে চেম্বার বিচারপতি এ আদেশ দেন।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই বেগম খালেদা জিয়াকে আদালত থেকে গ্রেফতার করে পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন কারাগারে আছেন।

এ ছাড়া এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া মামলায় অন্য চার আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিসুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ ছাড়া আসামিদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার জরিমানা স্থগিত করে বিচারিক আদালতের নথি ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের নথি পৌঁছার পর জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে তার আইনজীবীরা হাইকোর্টে আপিল দায়ের করেন।

এ ছাড়া গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের নথি পৌঁছার পর জামিন বিষয়ে আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech