'দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে বউকে গলা টিপে মেরে ফেলি'

  

পিএনএস ডেস্ক : কক্সবাজারের চকরিয়ায় তরুণী গৃহবধূ হত্যা রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হত্যার প্রধান আসামি স্বামী রুবেল বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতে (১৬৪) ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

সেখানে তিনি বলেন, এক বছর আগে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর লক্ষ্যারচরের দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে রোকেয়াকে আমার সাথে জোর করে বিয়ে দেয় শাশুড়ি। বিয়ে দেয়ার সময় এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা যৌতুক দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন শাশুড়ি। কিন্তু পরে ওই টাকা আর দেয়নি। টাকা চাইলেই স্ত্রীর দুই ভাই আলমগীর ও আলী হোসেন মিলে মারধর করতো। এমনকি স্ত্রীকেও বাবার বাড়ি রেখে দিতো শ্বশুর বাড়ির লোকজন।

আদালতে রুবেল আরো বলেন, একদিকে টাকা না পেয়ে মারধরের শিকার হই, অন্যদিকে স্ত্রীকেও রেখে দিলে আমি অসহায় হয়ে পড়ি। একপর্যায়ে কুল-কিনারা খুঁজে না পেয়ে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা করি। ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গত ১৯ মার্চ মাগরিবের পর শ্বশুর বাড়ি গিয়ে শাশুড়িকে বুঝিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে আসি। ওই রাতেই চকরিয়া কলেজের নিকটবর্তী তামাক খেতের ভিতরে নিয়ে যাই। এসময় আরো পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে আমি প্রথমে দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে ফেলি। পরে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করি স্ত্রীকে। এসময় অন্য পাঁচজনের মধ্যে দুইজন মুখ চেপে ধরে, অন্য তিনজন হাত-পা চেপে ধরে হত্যায় সহায়তা করে।

হত্যার দুইদিন পর ২১ মার্চ দুপুরে তামাক খেত থেকে গৃহবধূ রোকেয়ার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে মেয়ে রোকেয়া বেগমকে হত্যার অভিযোগে নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ২১ মার্চ রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় স্বামী রুবেল ও ভাসুর সোহেলসহ পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়। এরপর তথ্য উদঘাটনে মাঠে নামে চকরিয়া থানার এসআই সুকান্ত চৌধুরী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুকান্ত চৌধুরী আটক রুবেলের স্বীকারোক্তিমূলক দেয়া তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে হত্যার বিবরণ তুলে ধরলে তাকে বৃহস্পতিবার চকরিয়া সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতেও বিজ্ঞ বিচারকের কাছে রুবেল স্ত্রী হত্যার জবানবন্দি দেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ১৯ মার্চ হত্যা করা রোকেয়ার লাশ ২১ মার্চ তামাক খেত থেকে উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় নিহতের বাবা দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ওইদিন রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামী রুবেল ও ভাসুর সোহেলসহ পাঁচ-ছয়জনকে আসামি করা হয়। এই হত্যার ক্লু উদঘাটন করতে নিহতের স্বামীকে গ্রেফতার করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। তাই বিভিন্ন স্থানে সোর্স নিয়োগ করি।

নিয়োগ করা এক সোর্স চট্টগ্রাম শহরে রুবেলকে দেখতে পেয়ে কৌশলে চকরিয়ার বানিয়ারছড়ায় নিয়ে আসেন ২৮ মার্চ রাতে। ওই রাতেই সোর্স থেকে খবর পেয়ে আমি ও থানার এসআই সুকান্তসহ একদল পুলিশ ফোর্স নিয়ে বানিয়ারছড়া স্টেশন থেকে রুবেলকে গ্রেফতার করি। এই মামলার আসামি আকাশকে ইতিপূর্বে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর চারজনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের মার্চে উত্তর লক্ষ্যারচরের রোকেয়া বেগমের সাথে কাকারা শাহ উমর নগরের রুবেলের বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় যৌতুক নিয়ে। ২১ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে লাশ উদ্ধারের পর প্রথমে সনাক্ত না হলেও সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাশের পরিচয় মেলে।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech