ডেসটিনি কোম্পানি কেন অবসায়ন নয়: হাইকোর্ট

  

পিএনএস ডেস্ক : ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড (ডিটুকে) কোম্পানি কেন বিলুপ্ত (অবসায়ন) করার নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠানে বিলম্ব (দেরি) মার্জনা চেয়ে এবং সাধারণ সভা করা-সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৫ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি এম আর হাসানের একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ডেসটিনির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান খান।

আদেশের পর বদরুদ্দোজা জানান, ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর রেজিস্টার্ড হওয়া কোম্পানিটির ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বর্ষগুলোর বার্ষিক সাধারণ সভা বিলম্বের মার্জনা চেয়ে ওই কোম্পানীর পরিচালক লে. জে. এম হারুন-অর-রশীদ ও ৫ শেয়ার হোল্ডার হাইকোর্ট আবেদন করেন। হারুন-অর-রশীদ ছাড়া বাকী ৫ জন হলেন, কাজী মোহাম্মদ আশরাফুল হক, মো. সাইফুল আলম রতন, সিরাজুম মুনীর, মো.জাকির হোসেন, বিপ্লব বিকাশ শীল।

আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে, জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসের রেজিস্টার ও ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডকে।

এ কে এম বদরুদ্দোজা আরও বলেন, ‘আইন অনুসারে প্রতি ইংরেজি পঞ্জিকা-বত্সরে বার্ষিক সাধারণ সভা করতে হয়। এতে ব্যর্থ হলে কোম্পানীর যে কোন সদস্যের আবেদনক্রমে, আদালত উক্ত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা আহ্বান করতে অথবা আহ্বান করার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং আদালত উক্ত সভা আহ্বান অনুষ্ঠান ও পরিচালনার জন্য যেরূপ সমীচীন বলে বিবেচনা করিবে সেইরূপ অনুবর্তী (consequential) ও আনুষংগিক (incidental) আদেশ প্রদান করতে পারবে।’

এ আইন অনুসারে তারা হাইকোর্টে আবেদন করেন। কিন্তু যে ছয়জন আবেদন করেছেন, তাদের মধ্যে ডেসটিনির সভাপতি ও সাবেক সেনা প্রধান হারুন-অর-রশীদ শর্ত সাপেক্ষে জামিনপ্রাপ্ত। জামিনের শর্ত ছিলো তদন্ত পর্যন্ত তিনি এ কোম্পানির কোনো কার্যক্রমের সাথে কোনো রকম সম্পর্ক রাখবেন না। আবেদনে তদন্ত শেষ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু বলা নাই। ফলে তিনি আবেদন করতে পারেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এছাড়া তাদের এজিএমের আবেদনে উল্লেখ আছে ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কোম্পানির কোনো অডিট নেই। অডিট রিপোর্ট না থাকলে বার্ষিক সাধারণ সভা কীভাবে হবে?

তিনি আরও বলেন, আবেদনে তারা বলেছে দুদকের মামলায় সমস্ত সম্পদ জব্দকৃত এবং সে সম্পদ তত্ত্বাবধানে তত্ত্বাবধায়কও নিয়োজিত আছেন। ফলে কার্যত কোম্পানি হিসেবে এর কোনো কর্মকাণ্ড নেই। এছাড়া সাত পরিচালকের মধ্যে ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে কোম্পানির পরিচালক রফিকুল আমীন ও মোহাম্মদ হোসেন জেলে আছেন। চারজন পলাতক। এছাড়া তদন্ত চলাকালে অপর পরিচালক হারুন-অর-রশীদ এ কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না, এমন শর্তে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। দুদকের কারণে ছয় বছর ধরে কোম্পটানির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। এখন পরিচালক ছাড়া এজিএম হবে কিভাবে?

এ কারণে আদালত এজিএমের বিষয়ে আদেশ না দিয়ে কোম্পানিটি অবসায়ন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেডের প্রতি শো’কজ নোটিশ জারি করেছেন বলে জানান এ কে এম বদরুদ্দোজা।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech