খালেদা জিয়ার মানহানির দুই মামলার হাইকোর্টের আদেশ চেম্বারে বহাল

  

পিএনএস ডেস্ক : জাতীয় পতাকা অবমাননা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকায় করা মানহানির দুই মামলায় গ্রেফতার দেখাতে ও জামিন চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।

হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে লিভ টু আপিলের (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) শুনানি নিয়ে সোমবার (১১ জুন) চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিলের ওপর আগামী ২৫ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে হাইকোর্টের ওই আদেশে বিচারিক আদালতে চলমান খালেদা জিয়ার আবেদন নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাসুদ রানা।

পরে মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষের সিপি (লিভ টু আপিল) বিচারাধীন। এ কারণে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব করতে পারে। এ বিষয়টি আমরা আদালতের নজরে এনেছিলাম। চেম্বার আদালত তখন হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতকে খালেদা জিয়ার আবেদন নিষ্পত্তিরও আদেশ দিয়েছেন।

ঢাকার এই দুই মামলায় বিচারিক আদালতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট (হাজিরা পরোয়ানা) জারিপূর্বক খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের বিষয়ে গত ৩১ মে একটি রায় দেন হাইকোর্ট। গত ৬ জুন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

খালেদার আবেদনের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে বলা হয়, ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী অন্য মামলায় জেল হাজতে থাকলে আসামি গ্রেপ্তার দেখানোর দায়িত্ব প্রসিকিউশনের বা বাদীপক্ষের। আসামি পক্ষের এ পর্যায়ে এ ধরনের দরখাস্ত দেওয়ার আইনগত কোন সুযোগ নাই। তাই উক্ত পক্ষ কর্তৃক দাখিলী দরখাস্ত নথিজাত করা হইল।

ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এই আদেশের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, ম্যাজিস্ট্রেট এই বিষয়ে প্রক্রিয়াগত দিক থেকে ভুল পথে অগ্রসর হয়েছেন। নালিশী মামলায় অভিযুক্ত প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারিপূর্বক জামিন আবেদন করেন। তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, অন্য মামলায় তিনি কারাগারে আছেন। এ অবস্থায় গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল হয়েছে কি না, সেই প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য অপেক্ষার দরকার নাই। তাই প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারিপূর্বক জামিন আবেদন নথিজাত করে ম্যাজিস্ট্রেট গুরুতর ভুল করেছেন।

হাইকোর্টের রায়ে আরও বলা হয়, ম্যাজিস্ট্রেট জামিন আবেদন নিষ্পত্তিতে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব করেছেন, যা বিচারিক প্রক্রিয়ার অপব্যবহার। একইসঙ্গে নথিজাত করে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশও দেন হাইকোর্ট।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech