ঢাবি ও রাবি প্রশাসনকে সুপ্রিমকোর্টের ১৩ আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশ - আইন-আদালত - Premier News Syndicate Limited (PNS)

ঢাবি ও রাবি প্রশাসনকে সুপ্রিমকোর্টের ১৩ আইনজীবীর লিগ্যাল নোটিশ

  

পিএনএস ডেস্ক: কোটা সংস্কার আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সুপ্রিমকোর্টের ১৩ আইনজীবী লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন।

রবিবার দুপুরে আইনজীবীরা এই লিগ্যাল নোটিশ দেন।

এদিকে রবিবার কোটা সংস্কার আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং ছাত্রলীগের হামলার বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও আহত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। আহত শিক্ষকদের মধ্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক ওআন্তর্জাতিক বিভাগের সহোযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন শেষে মিছিল বের করে আন্দোলকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের কাছে এলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দুই অংশে ভাগ হয়ে সামনে ও পেছন থেকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের মারধর করে। ব্যানার ফেস্টুন কেড়ে নেয়। ছাত্রীদের গায়েও হাত তোলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঢাবি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় ছিল বেলা ১১টায়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের সামনে মানববন্ধন করে। একই সময় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ডের ঢাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা মানববন্ধন করে।

বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করতে এলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, আইনবিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়, ত্রাণ ও দুর্যোগবিষয়ক সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, স্কুল কার্যক্রমবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদিন, ঢাবি শাখার বঙ্গবন্ধু হলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম বাঁধন, সাধারণ সম্পাদক আল আমীন রহমান, হাজি মুহম্মদ মুহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, কবি জসিম উদ্দিন হলের সভাপতি আরিফ হোসেন সেখানে ছিলেন।

এরপর শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধন শুরু করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বিপরীত মুখে অবস্থান নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মাইক মুখোমুখি অবস্থান নেয়। মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ভাষায় কটূক্তি করতে থাকেন। তখন শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যের উত্তরে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলতে শোনা যায়।

এসময় শহীদ মিনারে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করে। প্রায় এক ঘণ্টা মানববন্ধনের পর সোয়া ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত পরিবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পর শিক্ষার্থীরা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে রাজু ভাস্কর্যের উদ্দেশে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আসে।

মিছিলটি রাসেল টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সন্তানরা তাদের সামনে ও পেছন দিক থেকে আক্রমণ করে। এতে শিক্ষার্থীদের ২০ জনের মতো আহত হয়। এ সময় শিক্ষকদেরও ধাক্কা দেয় ছাত্রলীগের নেতারা। এতে কয়েকজন শিক্ষককে মাটিতে পড়ে যেতে দেখা যায়। পরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আবার শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান নেয়।


পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech