আদালতে নেওয়া হয়নি ‘অসুস্থ’ খালেদা জিয়াকে, গ্যাটকো মামলার শুনানি পেছালো

  

পিএনএস ডেস্ক:অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মামলার বেগম খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির না করায় অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়নি।

কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সহকারী সার্জন ড. মাহমুদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি কাস্টডি আদালতে পাঠিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এতে লেখা ছিল- শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে আজ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজি করা হয়নি।

আদালতে খালেদার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই অসুস্থ। এ কারণে তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। তার অনুপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি হতে পারে না। এ ছাড়া আমরা মামলার প্রয়োজনীয় কাগজ এখনও পাইনি। তাই আমাদের একটি লম্বা সময় দেয়া হোক।

অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল শুনানিতে বলেন, আজ অভিযোগ গঠন শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তিনি জেলখানায় আছেন। জেল কর্তৃপক্ষ তাকে হাজির করেনি। তার অনুপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন শুনানি হতে পারে।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে পুরান ঢাকার আলিয়া মাদরাসা মাঠে অবস্থিত ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ সৈয়দ দিলজার হোসেনের আদালত আগামী ১৭ এপ্রিল অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে আলিয়া মাদরাসা মাঠ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে ১টা ৫ মিনিটে তাকে আবারও কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওইদিন খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, জয়নাল আবেদিন মেজবা ও জিয়াউদ্দিন জিয়া আদালতের কাছে সময় আবেদন করেন। আবেদনে তারা বলেন, আগের শুনানিতে মামলার আলামতসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা এখনও সেসব নথি হাতে পাইনি। তাই আমরা শুনানি করতে পারছি না। আমাদের সময় দেয়া হোক।

এ সময় বিচারক সময় আবেদন মঞ্জুর করে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১৮ মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করেছিলেন।

উল্লেখ্য, জরুরি বিধিমালা সংযুক্ত এ মামলার অভিযোগপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করে মামলা বাতিল চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। রিট আবেদনের কারণে প্রায় ৮ বছর নিম্ন আদালতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রিট খারিজ করে উচ্চ আদালত ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে দুই মাসের মধ্যে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ৫ এপ্রিল আত্মসমর্পন করে জামিন পান খালেদা জিয়া।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. গোলাম শাহরিয়ার ১৩ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০০৮ সালের ১৩ মে জোট সরকারের প্রভাবশালী ৯ সাবেক মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জহিরুল হুদা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২৪ আসামির মধ্যে সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভুইয়া, সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রাহমান কোকো মারা গেছেন। মামলাটিতে বর্তমান আসামির সংখ্যা ২০ জন।

অপর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক মন্ত্রী এম শামছুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, সাবেক মন্ত্রী কর্নেল আকবর হোসেনের (প্রয়াত) স্ত্রী জাহানারা আকবর, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন এবং একেএম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌ সচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক সদস্য একে রশিদ উদ্দিন আহমেদ এবং গ্লোবাল এগ্রোট্রেড প্রাইভেট লি.(গ্যাটকো) এর পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন। আসামিদের মধ্যে সম্প্রতি এমকে আনোয়ার হোসেন মারা গেছেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech