‌‘একদিন দেখি আকাশে হেলিকপ্টার, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ি’

  

পিএনএস ডেস্ক : গত ৮মে হাওয়াইয়ের মাকাওয়া দ্বীপে হাইকিংয়ে বের হন আম্যান্ডা এলার। এরপর তিনি গভীর জঙ্গলে আটকা পড়েন। দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় তার কোনো খোঁজ মেলেনি। অনুসন্ধানকারী দল অনেক চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে শুক্রবার তার খোঁজ পেয়েছে।

উদ্ধারের পর এই নারী নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেন, হয় বাঁচবো না হয় মরবো-আমার হাতে এই একটিমাত্র উপায় ছিল।

এলার পেশায় একজন ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট ও ইয়োগা ইনস্ট্রাকটর।

তিনি বলেন, আমার ভেতরে কেউ একজন বলছিল-'তুমি যদি বাঁচতে চাও, তবে এগিয়ে যাও'। তাই আমার কাছে জঙ্গল থেকে বের হতে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

জানা গেছে, এলার হাইকু শহরের বাসিন্দা। তিনি গত ৮ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তার সাদা টয়োটা গাড়িটি মাকাওয়া জঙ্গলের রিসার্ভ পার্কিয়ের জায়গায় পাওয়া যায়। গাড়িটির ভেতরে তার ফোন ও ওয়ালেটও ছিল। এলার হারিয়ে যাওয়ার পর তার সন্ধান পেতে ১০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেন তার পিতামাতা। এই ঘোষণার পর কয়েকশ' ভলান্টিয়ার তার সন্ধানে নেমে পড়ে।

এলার নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, হাঁটাহাঁটি করতে গিয়ে জঙ্গলের ভেতর পথ হারিয়ে ফেলেন তিনি।

তিনি বলেন, যে পথে আমি জঙ্গলে ঢুকেছি সে পথ দিয়ে ফিরে যেতে চাইলাম, আমার অদৃষ্ট আমাকে অন্য পথে নিয়ে গেল। কিন্তু আমার মনোবল ছিল খুবই শক্তিশালী। তাই আমি এগিয়ে যেতে থাকলাম।

এরপর তিনি জঙ্গলের গভীর থেকে আরো গভীরে এগিয়ে যেতে থাকলেন। চলার পথে তিনি খাড়া বাঁধ থেকে পড়ে গেলেন। এর ফলে তার পায়ে ক্ষতের সৃষ্টি হলো। গোড়ালিতেও মারাত্মক ব্যথা পেলেন তিনি।

তিনি জানান, তাকে ওই জঙ্গলে টিকে থাকতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। এই দীর্ঘ সময় তিনি লতাপাতা খেয়েছেন। পিপাস মেটাতে পান করেছেন নদীর পানি।

উদ্ধারকারী দল হেলিকপ্টারে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। অনেকে ভয় পেয়েছিলেন এই ভেবে যে, কেউ বা কারা তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে।

আম্যান্ডার খোঁজে ফেসবুকে একটি পেজ তৈরি হয়েছিল। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ নানা আশঙ্কা দানা বাঁধতে থাকে। অপহরণের কথা বারবার উঠতে থাকে বিভিন্ন লোকের মুখে। কিন্তু আম্যান্ডার মা হাল ছাড়তে নারাজ ছিলেন ।

আম্যান্ডার মা জুলিয়া বলেন, আমি জানতাম সে বেঁচে আছে। কখনও আশা ছাড়িনি। মাঝেমধ্যে ভয় লেগেছে, কিন্তু নিজের মনকে শক্ত রেখেছি।

জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সি এলার ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট। স্কুবা ডাইভিং, হাইকিংও করেন তিনি। তার শারীরিক ও মানসিক জোর নিয়ে ভরসা ছিল সকলের।

উদ্ধারকারী দলের প্রধান জেভিয়ার ক্যান্টেলপ বলেন, ফিটনেস ছাড়াও স্থানীয় অরণ্যের লতাপাতা নিয়ে ওর অগাধ জ্ঞান রয়েছে এলার। যেমন, কোনটা খাওয়া যায় আর কোনটা বিষাক্ত। জানতাম ও লড়াইটা চালিয়ে যেতে পারবে।

এদিকে ১৭ দিন পর আকাশে একটি হেলিকপ্টার দেখতে পেয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান অ্যামান্ডা,যেটা তাকেই খুঁজতে বেরিয়েছে।

তিনি বলেন, আমি ওপরে তাকিয়ে দেখলাম তারা (উদ্ধারকারীদল) ঠিক আমার মাথার ওপরে রয়েছে। আমি বললাম 'ও মা গড'। আমি আত্মহারা হয়ে গেলাম।

বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশির পরে মাউই দ্বীপের মাকাওয়াওয়ের অরণ্যে হেলিকপ্টার নিয়ে খোঁজ শুরু করা হয়। শুক্রবার হঠাৎই আম্যান্ডাকে দেখতে পান তারা। দুটি জলপ্রপাতের মাঝে একটি জায়গায় খালি পায়ে হাঁটছেন তিনি। আর হেলিকপ্টারের দিকে তাকিয়ে পাগলের মতো হাত নেড়ে যাচ্ছেন তিনি।

জেভিয়ার বলেন, আম্যান্ডা দেখে সবাই এক সঙ্গে হইহই করে উঠি। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না তখনও। হেলিকপ্টার থেকে একটি বাস্কেট নামিয়ে দেওয়া হয় নীচে। তাতেই চড়ে বসেন আম্যান্ডা। ফেসবুকে ছড়িয়েছে আম্যান্ডাকে উদ্ধারের সেই ফুটেজও।

জুলিয়া জানান, মেয়ের একটি পা ভেঙেছে। আরও কিছু ছোটখাট চোট রয়েছে। মনের উপর দিয়েও ঝড়ঝাপটা গেছে। দু’সপ্তাহ শুধুমাত্র বুনো লতাপাতা আর নদীর পানি খেয়ে বেঁচে ছিল সে। ১৫ পাউন্ড ওজন কমে গেছে তার। উদ্ধারের পরে সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech