বাংলাদেশে কি পাল্টে যাচ্ছে পারিবারিক বন্ধন?

  

পিএনএস ডেস্ক : গত দুই দশকে নগরায়নের ফলে বাংলাদেশের পারিবারিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে বলে সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন।

বাংলাদেশের সমাজে বিচ্ছিন্নতার হার বাড়ছে কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে সমাজ বা রাষ্ট্রের এখনো যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে তারা মনে করছেন।

এমন প্রেক্ষাপটেই আজ পালিত হচ্ছে জাতিসংঘের বিশ্ব পরিবার দিবস।

সমাজবিজ্ঞানী সামিনা লুৎফা বলছেন, বাংলাদেশে গত দুই দশকে নগরায়ন এবং শিল্পায়নের ফলে অনেক মানুষ গ্রাম থেকে শহরে এসেছেন। এদিকে গ্রামগুলোতে যে পরিবারগুলো ছিল, তার ধারণাও পাল্টে গেছে।

''এখন গ্রামের মেয়েরাও শহরে আসছেন কারখানায় কাজ করার জন্য। আবার যারা বিবাহিত নারী, তারা কাজে আসার সময় সন্তানকে নিজের বাবা-মায়ের কাছে রেখে আসছেন।''

বাংলাদেশে গত দু দশকে নগরায়ন হয়েছে ব্যাপকভাবে - সাথে সাথে বহু নারী শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কাজ করতে শুরু করেছেন।

শহরেও এখন যৌথ পরিবারের তুলনায় একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে।

তিনি বলছেন, ''যারা শহরে চলে এসেছেন, এখানে পরিবার তৈরি করেছেন, তাদের পরিবারের ধরণটাও ভিন্ন হচ্ছে। হয়তো স্বামী-স্ত্রী চাকরি করছেন, তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে, একে অপরকে সময়ের ধরণ পাল্টেছে।''

গ্রামের সঙ্গে কি তাদের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হচ্ছে?

সেটি পুরোপুরি হচ্ছে না, কারণ এখনো শহরের পরিবারগুলো বছরে অন্তত উৎসবের সময় গ্রামের দিকে ছোটেন। এখনো তাদের গ্রামের সঙ্গে একটি যোগাযোগ রয়েছে।

কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেটি পাল্টে যাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সহযোগী অধ্যাপক বলছেন, ''নগরায়নের কারণে মানুষের মূল্যবোধেরও অনেক পরিবর্তন হচ্ছে। একটি জরিপ মতে, গত এক দশকে তালাকের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও তালাক দেয়ার হার শহরের চেয়ে বেশি।''

তিনি বলছেন, ''এই তালাক দেয়ার তালিকায় বেশিরভাগই কিন্তু নারী। সুতরাং নারী-পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে বড় একটি পরিবর্তন আসছে।''

সামিনা লুৎফা বলছেন, ''ভবিষ্যতে আমরা অন্য যেকোনো শিল্পোন্নত দেশের মতো আমরাও দেখতে পাবো, একক মায়েদের সংখ্যা বেড়ে যাবে, তালাক প্রাপ্ত অভিভাবকদের সংখ্যা বাড়বে। ফলশ্রুতিতে শিশু সন্তানদের দেখাশোনার দায়ভার যদি সমাজ বা রাষ্ট্র গ্রহণ না করে, তার প্রভাব সমাজের ওপর পর। একসময় এই শিশুদের হয়তো দাদী-নানী দেখতেন। এখন আর সেগুলো পাওয়া যাবে না। তাহলে এই সেবাটা কিন্তু সমাজ বা রাষ্ট্র থেকেই আসতে হবে।''

কিন্তু সেজন্য কাঠামো বা প্রতিষ্ঠান কি তৈরি হচ্ছে?

সমাজবিজ্ঞানী সামিনা লুৎফা বলছেন, ''সেরকম সুবিধা আসলে এখনো দেখা যাচ্ছে না। যেখানে কিছু গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে ডে-কেয়ার সেন্টার থাকলেও, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানেই এখনো সেসব নেই। পৃথিবীতে সবসময়েই পরিবারের ধরণ পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের সমাজেও এখন যে পরিবর্তিত পরিবারের চেহারা আসছে, সেটার সাথে তাল মেলাতে হলে সমাজকে,রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে।"

কিন্তু সেরকম যথেষ্ট পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না বলে তিনি মনে করছেন।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech