‘সংসদে কোরাম সংকটে অপচয় ১২৫ কোটি টাকা’

  

পিএনএস ডেস্ক : চলতি দশম জাতীয় সংসদের গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫২ ঘণ্টা ১৭ মিনিট কোরাম সংকটের কারণে অপচয় হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ১২৫ কোটি ২০ লাখ ৬৯ হাজার ৪৫৫ টাকা।

এর মধ্যে গত বছরের অধিবেশনে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে ৩০ মিনিট কোরাম সংকটে অপচয় হয়েছে। এর প্রতি মিনিটে গড় অর্থমূল্য ৬৩ হাজার ৬৮৬ টাকা। এই হিসাবে গত বছর কোরাম সংকটের সময়ের অর্থমূল্য ৩৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৩৮ টাকা।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) 'পার্লামেন্ট ওয়াচ' শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে। এ উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ২০০১ সাল থেকে ধারাবহিকভাবে প্রতিবছর টিআইবি এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে।

বৃহস্পতিবার চলতি সংসদের ১৪তম থেকে ১৮তম (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) অধিবেশন নিয়ে তৈরী গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। এতে সংগঠনের ট্রাষ্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান সুলতানা কামাল ও নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ গবেষণা কাজে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোরাম সংকট সব সময়ই ছিল। এখন সেটি গড়ে ৩০ মিনিট, যা উদ্বেগের বিষয়। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের ভূমিকা পালনে ব্যাপক ঘাটতি দেখা যায়। সংসদের শেষ দিকে এসে বিরোধীদলের আত্মপরিচয়ের সংকট একাধিকবার তাদের নিজেদের মুখেই শোনা গেছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালনে তারা ব্যর্থ হয়েছে।

সংসদে ৩৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। সংসদে ন্যূনতম ৬০ জন সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম গঠিত হয়। সংসদে ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না থাকলে কোরাম সংকট হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি সংসদে বিভিন্ন আলোচনা পর্বে সংসদ সদস্যরা অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করেছেন মোট সময়ের ৫ ভাগ। সংসদের ভেতরের প্রতিপক্ষ দল ও সংসদের বাইরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিয়ে ১৯৫ বার অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে অসংসদীয় ভাষা ব্যবহার হয়েছে ২৩ বার। এ ধরনের আলোচনা বন্ধে স্পিকারের কার্যকর ভূমিকার ঘাটতি দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে টিআইবি বলেছে, প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। অথচ সরকারের মন্ত্রিসভায় তাদের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি অর্থাৎ সরকারে তাদের দ্বৈত অবস্থান ও দশম সংসদের প্রায় চার বছরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রধান বিরোধী দলের আত্মপরিচয় সঙ্কটের কারণে তাদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

এর আগে টিআইবির এক প্রতিবেদনে 'সংসদকে পুতুল নাচের নাট্যশালা' বলা হয়েছিল। এখনও এটা মনে করেন কিনা জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত। বিরোধী দল হিসেবে যারা নিজেদের দাবি করছে, তাদের নিজেদের কণ্ঠেই আত্মপরিচয়ের সঙ্কটের কথা ফুটে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংসদের ভূমিকায় ঘাটতি রয়েছে। প্রত্যাশিত ভূমিকা পালনে সংসদ ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এজন্য সরকারি গেজেট প্রকাশ হয়নি বা দাপ্তরিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। অথচ বিশেষ দূতের জন্য সরকারি প্রটোকল, বিশেষ ভাতা ও অন্যান্য খাত বাবদ গড়ে পাঁচ লাখ টাকা সরকারি ব্যয় হচ্ছে।

এরশাদ বিভিন্ন দেশে ব্যক্তিগত সফর করলেও বিশেষ দূত হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি। বিশেষ দূতের জন্য ব্যয় করার টাকা দুর্নীতি কিনা জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়ে থাকলে সেটাকে দুর্নীতি বলা যেতে পারে।

পিএনএস/জে এ /মোহন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech