পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন যাচ্ছেন

  


পিএনএস ডেস্ক: রোহিঙ্গা সংকটসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার জন্য চীন সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র ঢাকা সফরের ফিরতি সফর হিসেবে তারই আমন্ত্রণে আগামী ২৭শে জুন মন্ত্রী মাহমুদ আলী বেইজিং যাচ্ছেন বলে সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সূত্র মতে, আগামী ২৯শে জুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক হবে। সকাল থেকে শুরু হওয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি মাহমুদ আলীর সম্মানে ওয়াং ই’র মধ্যাহ্নভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সেগুনবাগিচা মনে করছে- বর্তমান সরকারের মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটাই হয়তো শেষ বেইজিং যাত্রা। নির্বাচনী বছরের এ সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সাক্ষাৎ পেতে চান মাহমুদ আলী।

এ নিয়ে ঢাকার তরফে আনুষ্ঠানিক অনুরোধও পাঠানো হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ বিষয়ে বেইজিংয়ের গ্রিন সিগন্যাল পাওয়া যায়নি। অবশ্য মাহমুদ আলীর দপ্তর সূত্র বলছে, চীনা প্রেসিডেন্টের অ্যাপয়েনমেন্ট পাওয়া না গেলে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বেইজিংস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতি। উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায় গত নভেম্বরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিং সফরে যাওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। সেই সময় আচমকা চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ঢাকা সফর করেন। ঢাকায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক হয়। সেখানে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতা এবং এ সংক্রান্ত ৩ দফা প্রস্তাব কবুল করে ঢাকা। যার ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয় মিয়ানমারের সঙ্গে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা থেকে ইয়াংগুন ফিরে যুদ্ধবিরতি, প্রত্যাবাসন এবং পুনর্বাসন সংক্রান্ত বেইজিংয়ের ৩ দফা প্রস্তাবে ঢাকার সায় রয়েছে বলে দুনিয়াকে জানিয়ে দেন। তার ওই ঘোষণায় ঢাকায় চরম অস্বস্তি তৈরি হয়। যদিও চীনের পরামর্শেই বহুপক্ষীয় সমাধানের পথ ছেড়ে বাংলাদেশ চূড়ান্ত চুক্তি মোতাবেক পুঞ্জীভূত রোহিঙ্গা সংকটের দ্বিপক্ষীয় সমাধানের পথে রয়েছে। চুক্তির সাত মাস অতিবাহিত হলেও প্রত্যাবাসনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তারপরও এ ইস্যুতে চীন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব বা আন্তর্জাতিক পদক্ষেপে বরাবরের মতো বিরোধিতা করে আসছে। উদভূত পরিস্থিতিতে মন্ত্রীর বেইজিং সফর বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গতকাল গণমাধ্যমকে বলেন- মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব রয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের পক্ষেই চীনের অবস্থান। তারপরও তারা ঢাকার সঙ্গে এনগেজ রয়েছে। আমরা রোহিঙ্গা বোঝা লাঘবে এবং এ সংকটের টেকসই সমাধানে বেইজিংয়ের সহায়তা চাই। গত নভেম্বরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরে এ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। ঢাকা-বেইজিংসহ অন্যান্য বৈঠকেও কাঙিক্ষত সহায়তার বিষয়ে আলোচনা হয়ে আসছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে ফের সে বিষয়ে সহায়তা চাওয়া হবে। ওই সফরে রাজনীতি, আসন্ন সংসদ নির্বাচন, বাংলাদেশকে দেয়া চীনা ঋণের শর্ত শিথিল করাসহ আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়েও কথা হবে বলে আভাস দেন ওই কর্মকর্তা।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech