৭ হাজার হজযাত্রীর কোটা খালি থাকার শঙ্কা

  


পিএনএস ডেস্ক: আসন্ন হজের জন্য বিমানের এখনো প্রায় ১০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়নি। হজ এজেন্সিগুলো জানিয়েছে তারা নিয়মিত হজযাত্রীদের প্রায় সব টিকিট কেটেছেন। কিন্তু অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে অনেকে হজে যেতে পারছেন না। সে কারণে এসব টিকিট অবিক্রীত রয়ে গেছে। রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ না দিলে পাঁচ থেকে সাত হাজার কোটা খালি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে রিপ্লেসমেন্টের কোনো সুযোগ নেই।

আসন্ন হজে মোট এক লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজে যাবেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিমান ১৮৭টি ফ্লাইটে ৬৪ হাজার ৯৬৭ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে এবং সাউদিয়া এয়ারলাইন্স ৬১ হাজার ৮৩১ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে। এ বছর নিয়মানুযায়ী আগে হজযাত্রীদের বিমানের টিকিট কাটতে হবে। এরপর ভিসার জন্য আবেদন করা যাবে। কিন্তু সম্প্রতি বিমান জানায়, এখনো পর্যন্ত ২৩ হাজার ১৯১ জন হজযাত্রীর অনুকূলে টিকিট কাটার প্রক্রিয়া শুরু করেনি ১৪৪টি এজেন্সি। এর মধ্যে ৫৬টি এজেন্সি তাদের হজযাত্রীদের অনুকূলে একটি পে-অর্ডারও ইস্যু করেনি। এ ৫৬ এজেন্সির হজযাত্রী রয়েছে ১২ হাজার ৯৪৯ জন। এছাড়া ৮৮টি এজেন্সি তাদের মোট ২১ হাজার ১৭৯ জন হজযাত্রীর মধ্যে ১০ হাজার ৯৩৭ জন হজযাত্রীর জন্য টিকিট কাটলেও ১০ হাজার ২৪২ জন হজযাত্রীর জন্য কোনো পে-অর্ডারও ইস্যু করেনি। এ কারণে গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ৫৬টি এজেন্সিকে তলব করা হয়। তবে গতকাল ৪৩টি এজেন্সি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের শুনানিতে উপস্থিত হয়। এ সময় এজেন্সি মালিকেরা জানান, তারা ইতোমধ্যে বিমান টিকিটের জন্য পে-অর্ডার ইস্যু করেছেন। তবে ব্যাংক থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিমানকে সরবরাহ করা হয়নি। এ কারণে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

সভায় ধর্মসচিব আনিছুর রহমান বলেন, এখনো বিমানের প্রায় ১০ হাজার টিকিট অবিক্রীত রয়ে গেছে। কী কারণে হজ এজেন্সিগুলো টিকিট কাটছে না তা জানতে চান তিনি। এ সময় সভায় উপস্থিত বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, আমার মনে হয় অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে এসব ব্যক্তি হজে যাবেন না, এ কারণে এজেন্সিগুলো টিকিট কাটেনি। রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ দিলে এ কোটা পূরণ হবে। হাবের সভাপতি আব্দুস সোবহান ভূঁইয়া বলেন, বিমানের প্রায় ১০ হাজার টিকিট বিক্রি হয়নি। রিপ্লেসমেন্টের সুযোগ না দিলে পাঁচ থেকে সাত হাজার হজযাত্রীর কোটা পূরণ হবে না।

জবাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (হজ) মো: হাফিজ উদ্দিন বলেন, রিপ্লেসমেন্ট নিয়ে আগে কোনো নীতিমালা ছিল না। এবার নীতিমালা করা হয়েছে, যা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আগেই ৪ শতাংশ রিপ্লেসমেন্ট করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। মৃত্যু অথবা গুরুতর অসুস্থতার কারণে এ সুযোগ দেয়া হয়েছে। এখন নতুন করে রিপ্লেসমেন্ট করা জটিল ও কঠিন। নীতিমালার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বললেই চলে।

ধর্মসচিব আনিছুর রহমান বলেন, আমরা আশা করি এর মধ্যে বিমানের টিকিট বিক্রি হয়ে যাবে। রিপ্লেসমেন্টের ব্যাপারে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এজেন্সিগুলো ভুয়া হাজী বানিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেছে। এখন তাদের বিপরীতে রিপ্লেসমেন্ট চাচ্ছে। এ সময় উপস্থিত বেসরকারি এজেন্সিগুলো সমস্বরে এর প্রতিবাদ করে বলে, তারা এ ধরনের কোনো ঘটনার সাথে জড়িত নয়। তখন সচিব বলেন, আমরা প্রমাণ নিয়েই কথা বলছি। তবে রিপ্লেসমেন্ট বৃদ্ধির বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া তার এমনকি মন্ত্রীরও ক্ষমতার বাইরে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য আরো ওপরে যেতে হবে। শেষ দিকে যদি এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে আমার সর্বোচ্চপর্যায় পর্যন্ত যাব। সভায় সচিব আসন্ন হজে ভালো সেবা দিলে এজেন্সিগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে বলে ঘোষণা দেন। এ দিকে গতকাল পর্যন্ত ৫২ হাজার হজযাত্রীর ভিসা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান সচিব। সূত্র: নয়া দিগন্ত

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech