বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বর্তমান রাজনীতি!

  

পিএনএস (জে এ মোহন) : এলো শোকের মাস। শোক পালনের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে জাতি হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা এবং স্বাধীনতার চেতনাকে মুছে ফেলার অপচেষ্টায় এক কালো অধ্যায়ের সূচনা করে ঘৃণিত ঘাতকরা। আর তাই আগস্ট মানেই জাতির বেদনা বিধুর শোকের মাস। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন নিয়ে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে আজ সর্বত্র চলছে আদর্শহীন রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভ ও স্বার্থের খেলা। পরিস্থিতি এমন হয়ে গেছে বঙ্গবন্ধুর নাম নিয়ে অনিয়ম, সন্ত্রাস, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার, ব্যাংক হরিলুট, সরকারি বাস, বিমান, কারখানা, অফিস, রাস্তা নির্মাণে সর্বত্র আজ দুর্নীতি। যেন বঙ্গবন্ধুর নাম ও ছবি থাকলে সাত খুন মাফ!

বঙ্গবন্ধুর ভাষায় এরা কারা? বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার কৃষক, আমার শ্রমিক, আমার জনগণ চোরাকারবারি করে না, ঘুষ-দুর্নীতি করে না। এসব করে শিক্ষিতরা। বিদেশের এজেন্ট আমার সাধারণ জনগণ হয় না। এজেন্ট হয় স্যুট-টাই পরা ইংরেজি জানা শিক্ষিতরা।

এখন যারা এসব করেন বঙ্গবন্ধু আগেই বলে দিয়েছেন এরা কারা। তবে এখন এসব করছেন বঙ্গবন্ধুর নাম দিয়ে আদর্শহীন কিছু কুচক্রী কাউয়া, হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারীরা। তাদের কাছে ‘বঙ্গবন্ধু’ নাম একটি নিরাপদ সাইনবোর্ড, যা ব্যবহার করে ফায়দালুটেরা সক্রিয় রয়েছে। অথচ তাদের চরিত্রে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ‘আ’ আছে কি না? তা নিয়েও গভেষণা প্রয়োজন! বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি তাঁর চিন্তা ও চেতনার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করে যারা রাজনীতি করেন, তারা মুখে দেশপ্রেম বলে, অন্যদিকে ক্ষমতার লোভে নিজের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে বাড়ী-গাড়ি করতে ব্যস্ত।

রাজনীতিতে জনগণের অনুভূতিকে লালন না করে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা নয় কি? দেশপ্রেমের নামে নিজের প্রেমে মগ্ন বললে মনে হয় বেশি একটা ভুল হবে না। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের চেয়ে নিজের ভাগ্য উন্নয়নে, বিত্ত-বৈভব ক্ষমতা ও ভোগ বিলাসে মত্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নামে আদর্শহীন হাইব্রিডরা। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেন, সংগ্রাম করেন, তাঁরা আদর্শহীন হাইব্রিডদের দাপটে অনেক দূরে থাকতে হয়।


আবার যেন ফিরে না আসে বাঙালির ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় সেদিকে নজর রাখা বরই প্রয়োজন। কারণ বাঙ্গালি জাতিকে পিছিয়ে রাখতে কুচক্রী মহল থেমে নেই। একের পর এক নতুন রূপ নিয়ে আমাদের মাঝেই রয়েছে তারা।

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ও ১৫ আগস্ট তদানীন্তন ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়ে যথাক্রমে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্মকে বোঝানো হয়। কিন্তু বাঙালী জাতি সেই আশার আলোর বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় পাকিস্তানি কালপিটরা।

তাদের রোপণ করা বীজ আজও এদেশে রয়ে গেছে। এভাবে দেশের ওপর দিয়ে একের পর এক কচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে এদেশকে পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আজ আমাদেরকে আরো সচেতনভাবে সেই কুচক্রী মহলকে চেনা প্রয়োজন।

আজও তারা এদেশকে গ্রাস করতে নানাভাবে নতুন নামে সক্রিয় রয়েছে এসব কুচক্রী মহল। যাদের কারণে বারবার পিঁছিয়ে পড়ছে এ দেশ। আড়াল থেকে গ্রাস করছে দেশের রাজনীতি ও সাধারণ মানুষকে। কাঁদো বাঙ্গালি কাঁদো, দেশ ও জাতি যাকে হারিয়েছে তাকে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। কেঁদে কেঁদে যদি একটু সান্ত্বনা দেওয়া যায় তাহলেও মনকে বোঝানো যাবে বাঙালির ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায় আজ মুছে গেছে।

বাঙালির ইতিহাসে কলঙ্কিত এক অধ্যায় সূচিত হয়েছে এই আগস্ট মাসে। ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাঙালি জাতি সে নিষ্ঠুর হত্যার বিচারের রায় কার্যকরের মাধ্যমে কলঙ্কমুক্ত হলেও ঘাতকদের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণার চেতনাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে এ মাস।

আগস্টকে ঘাতকরা তাদের নিষ্ঠুর টার্গেটের মাস হিসেবে বেছে নিয়েছে বারবার। ১৯৭৫ সালের এ মাসে যেমন বাঙালিরা হারিয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, তেমনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড ছুঁড়ে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল জাতির জনকের কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ভাগ্যক্রমে সেদিন তিনি বেঁচে গেলেও এই ঘটনায় প্রায়ত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী, আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন।

অকৃতজ্ঞ ঘাতকরা ১৫ আগস্ট কালোরাতে শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, ঘৃণ্য নরপশুরা একে একে হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজি জামালকে। জঘন্যতম এই হত্যাকাণ্ড থেকে বাঁচতে পারেনি বঙ্গবন্ধুর ভাই শেখ নাসের, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে যুবনেতা ও সাংবাদিক শেখ ফজলুল হক মণি, কর্নেল জামিলসহ ১৬ জন সদস্য ও আত্মীয়স্বজন।

সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর গোটা বিশ্বে নেমে আসে তীব্র শোকের ছায়া এবং ছড়িয়ে পড়ে ঘৃণার বিষবাষ্প।

টাইমস অব লন্ডন-এর ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট সংখ্যায় বলা হয় ‘সবকিছু সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুকে সবসময় স্মরণ করা হবে। কারণ তাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের বাস্তব কোন অস্তিত্ব নেই।’ একই দিন লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করবে।’

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একটি দুর্নীতি মুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শোষণমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই পারে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান ও আস্থা বিশ্বাস রাখা।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech