ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধনে সম্পাদকরা রাজপথে

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে স্বস্তি নেই। এই আইনটি সংসদে পাস হওয়ার আগে থেকেই তারা এর বিরোধিতা করে আসছেন। এটি সংসদে পাস এবং রাষ্ট্রপতি এটিতে স্বাক্ষর করার পরও তারা কয়েকটি ধারা বাতিলের দাবিতে রাজপথে। এমনকি কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবিতে সম্পাদক পরিষদও শেষ পর্যন্ত রাজপথে নেমেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবিতে পূর্বঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে সম্পাদক পরিষদ। সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। সম্পাদকদের বাইরে অনেক সাংবাদিক ও জনচেতন মানুষ মানববন্ধনে অংশ নন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন প্রমুখ।

সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী মনে করি। তিনি আরো বলেন, এ আইন বলবৎ থাকলে প্রেস মিডিয়া, টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়াসহ কেউই আমরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারব না।

আর আগে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারাগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই এ ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ২৯ সেপ্টেম্বর একই দাবিতে আমাদের মানববন্ধন কর্মসূচি ছিল, কিন্তু তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে ওই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। কিন্তু ৩ জন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়নি। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ কর্মসূচি দেন। যদিও আইন ও তথ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে সময় চলে যায়নি বলে মনে করেন।

সংসদে পাস হওয়ার পর স্বাক্ষর না করে আইনটি সংসদে ফেরত দেওয়ার দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের আহ্বান সত্ত্বেও ডিজিটিল নিরাপত্তা আইনে স্বাক্ষর করেছেন রাষ্ট্রপতি। স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসীরা মনে করেন, এখনো সময় আছে আগামী সংসদ অধিবেশনে এই আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধন করার। ৯টি ধারা স্বাধীন চিন্তা ও মত প্রকাশের অন্তরায় বলে মনে করছেন তারা।


আইনটি নিয়ে সম্পাদক পরিষদই শুধু নয়, উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাসীরাসহ সচেতন জনগোষ্ঠী। তাদের মতে, এটি কালো আইন, কালাকানুন। এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে। আইনটি সম্পূর্ণ মুক্ত চিন্তার পরিপন্থী। এতে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতার অপমৃত্যু ঘটবে বলেও তাদের অভিমত। তাই তারা এ আইনটির উপরিউক্ত ধারাগুলো বাতিল চান।

কদিন আগেও সাংবাদিক কল্যাণ ফান্ডে প্রধানমন্ত্রী ২০ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন। যে সরকারের প্রধানমন্ত্রী এত বড় একটা অনুদান সাংবাদিকদের জন্য দিয়েছেন, সে সরকার সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত এমন আইন করবে- তা বেমানান বৈকি। ফলে সাংবাদিক সমাজ মনে করে, আইনটির বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধনপূর্বক স্বাধীন সাংবাদিকতায় পথের অন্তরায়গুলো দূর করা হবে।

লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech