ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা অব্যাহত, চাঁদপুরে বেড়েছে বরফের দাম, চরাঞ্চলে লবণ দেওয়া হচ্ছে

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ডিমওয়ালা ইলিশ ধরছে একশ্রেণীর জেলে। ধরপাকড় অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও এবং প্রণোদনা পাওয়ার পরও ইলিশ মাছ ধরা থেমে নেই। অভিযোগ আছে, ক্ষমতাসীনদের আশকারায় জেলেরা বেপরোয়া।

সারা দেশের নদ-নদীতে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক জেলে এবং পঁচ লক্ষাধিক মিটার কারেন্ট জাল আকট এবং জেল-জরিমানার পরও নদীতে জাল ফেলছে বেপরোয়া জেলেরা। মাছ বেশি ধরা পড়ায় তারা লোভ সামলাতে পারছে না বলে মনে করা হচ্ছে।
বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠিতে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে দিন-রাত চলছে মা ইলিশ শিকারের প্রতিযোগিতা। স্থানীয় প্রায় চার শতাধিক জেলে প্রতিদিন নদীতে ইলিশ শিকার করছেন। আর সেই ইলিশ বিক্রিও হচ্ছে প্রকাশ্যেই।

এক ফেসবুক ব্যবহারী তার টাইম লাইনে লিখেছে ‘নলছিটিতে মাছের কেজি ১০০ টাকা’। বাস্তবেও এমন তথ্য মিলেছে। উপজেলার ভৈরবপাশা এলাকায় নদীতে রাতের আধারে মাছ ধরে গোপনে পানির দামে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছে জেলেরা। স্থানীয় মৎস্য বিভাগের অদূরদর্শিতা ও দায়সারা অভিযানের কারণে অসাধু জেলেরা বেপরোয়া বলে অভিযোগ করছে এলাকাবাসী।

অভিযোগে প্রকাশ, মাছসহ ট্রলার আটক করে উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া গ্রামের বিষখালী নদীতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের তত্তাবধায়নে মাছ শিকার বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে প্রকাশ্যে। এ এলাকায় কেউ অপরাধ করে ফেসে গেলে প্রভাবশালী এক জনপ্রতিনিধির মধ্যস্থতায় সমঝোতা হয়ে যায়।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেলেরা অবাধে মা ইলিশ ধরছে। জেলার নলছিটি উপজেলার সুগন্ধা নদীর সরই, মাটিভাঙ্গা, ফেরিঘাট, নাইয়াপাড়া, খোঁজাখালী, অনুরাগ, দপদপিয়া পুরাতন ফেরিঘাট, ভবানিপুর, হদুয়া, বিষখালী নদীর ভেরনবাড়িয়া ও নলবুনিয়া খেয়াঘাট, রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া, বাদুরতলা এলাকার নদীতে শত শত জেলেকে উৎসবমুখর পরিবেশে মাছ ধরতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, সরকারিভাবে কড়াকড়ি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণীর লোভী জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরছে। সকাল ১০টা, বেলা ৩টা, রাত ১০টায় ও ভোর ৪টায় প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে অবাধে এ মা ইলিশ নিধন করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে যেভাবে অভিযান পরিচালিত হতো, এ বছর তেমনটা হচ্ছে না।

৭ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রজনন মৌসুমে ১৫ দিন সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ বা বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়। আর এতে লাভবান হয় মূলত জেলারাই। কারণ তাদের জালে বড় বড় ইলিশ ধরা পড়ে। এতে তাদের আয়ও বাড়ে।

বরিশাল, পিরোজপুর, চাঁদপুর, লক্ষীপুর, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, সিরাজগঞ্জ, শরীয়তপুরের একশ্রেণীর জেলে মা ইলিশ ধরছে। তাদের জালে এতটাই ইলিশ ধরা পড়ছে যে, চাঁদপুরের বরফকল মালিকরা দাম বাড়িয়েও কুল পাচ্ছেন না। চাহিদার কারণে বরফ কলগুলো প্রায় ২৪ ঘন্টা খোলা রাখতে হচ্ছে। আর বেশির ভাগ ইলিশ মাছই নাকি লবণ দিয়ে রাখা হচ্ছে। এসব নাকি চরাঞ্চলে বেশি হচ্ছে।

এই নিষেজ্ঞায় যাদের বেশি লাভ, তারা হলো জেলে। তারা প্রণোদনাও পাচ্ছে। তার পরও একশ্রেণীর জেলে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা ইলিশ ধরছে। এদের ক্ষমতাসীনদের একটি মহল তাদের আশকারা দিচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। আর নদীর এক পাশে অভিযান চললে, অন্য পাশে জাল ফেলা হয়। এদের পাকড়াও করতে একসঙ্গে একাধিক অভিযান পরিচালনা দরকার বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।

শুধু প্রণোদনা দিয়ে বসে থাকলে হবে না, প্রজনন মৌসুম ও জাটকা অবস্থায় মাছ না ধরলে এর সুফল কী, এ সম্পর্কে জেলেদের মধ্যে ক্যাম্পেইন করতে হতে হবে। জানান দিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি সুফলের ইতিবৃত্ত। প্রশিক্ষণটা এমন নিখুঁত হওয়া চাই, যাতে জেলেরাই উদ্যোগী হয়ে এ কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। জেলেরা যখন স্বার্থ বুঝে রুখে দাঁড়াবে তখন নদীতে জাল ফেলার সাহস কেউ পাবে না।
লেখক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech