‘বিতর্কিত নির্বাচন হলে তরুণরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে’

  

পিএনএস ডেস্ক: দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশয়ের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। আর এতে করে আরেকটি বিতর্কিত নির্বাচন হলে দেশের তরুণরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে ২২ অক্টোবর ‘সুজন-সুশাসনের জন্যে নাগরিক’-এর সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইতোমধ্যেই সংলাপ শেষ করেছে। কিন্তু আশংকার কথা হলো যে, গত ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের একাংশের হলফনামা বাতিলের প্রস্তাব আমাদের হতবাক করেছে।

তিনি আরো বলেন, এটা মৌলিক অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। আমরা মনে করি, হলফনামার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধান বাতিল চেয়ে দলটি যে অভিমত প্রকাশ করেছে, তা সত্যিই হতাশাজনক ও অনভিপ্রেত।

ওইদিন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘সুজন-সুশাসনের জন্যে নাগরিক’-এর উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনে ড. বদিউল আলম মজুমদার এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান, বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, জাকির হোসেন, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরসহ সুজন-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২২ আগস্ট এক গোলটেবিল অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন ধরনের নির্বাচনকালীন সরকার থাকবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য শুধু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ করতে হবে। তারা চাইলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।

‘সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বর্তমান সাংবিধানিক বিধান সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে একটি বাধা। কেননা সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা কঠিন হবে।

বৈঠকে সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান, সহ সভাপতি বিচারপতি কাজী এবাদুল হক, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এরও আগে অপর এক অনুষ্ঠানে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) কেন্দ্রীয় সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে কেউ কেউ আবার বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা খাদে পড়ে গেছে।

সুজন সম্পাদক বলেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট থাকে। গণতান্ত্রিক যাত্রা পথের সূচনা হয় একটা নির্বাচনের মাধ্যমে। এখন তো নির্বাচনে আর ভোট দিতে হয় না। নির্বাচনের ফলাফল আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। এটা গণতন্ত্রের যাত্রা পথের জন্য অশনি সঙ্কেত।

নতুন নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গটেনে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি আমাকে ডেকেছিল,পরামর্শও নিয়েছিল। কিন্তু এখন প্রশ্ন বিষয়টি লোক দেখানো ছিল কি না। কারণ পরামর্শ গ্রহণ করার মত কিছু চোখে পড়েনি। নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সঠিক না হলে যারা তাদের খুঁজে বের করেছেন তারা দায়ী হবেন।

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) কেমন তা সময়ই বলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

পিএনএস/আনোয়ার

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech