নিহত আবরার নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন

  

পিএনএস ডেস্ক :রাজধানীতে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে সুপ্রভাত বাসের চাপায় নিহত শিক্ষার্থী আবরার গত আগস্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তার সহপাঠী বন্ধুরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি আবরারের ফেসবুক প্রোফাইলেও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সকালে নর্দ্দা এলাকায় যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে সুপ্রভাত বাসের চাপায় মারা যান আবরার আহমেদ চৌধুরী। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন চলাকালে আবরার আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে তিনি তার ফেসবুক প্রোফাইলের ছবি পরিবর্তন করেছিলেন। ছবির নিচে লেখা ‘নিরাপদ সড়ক চাই’। গত ২ আগস্ট ছবিটি পোস্ট করেছিলেন আবরার। ওই সময় নিরাপদ সড়ক দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলনে উত্তাল ছিল সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলে ওই আন্দোলন। সেই আন্দোলনে সমর্থন ছিল আজকের সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আববারের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বিইউপির একটি বাস দাঁড়িয়ে ছিল। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আবরার ওই বাসে উঠতে গেলে গাজীপুরগামী সুপ্রভাত পরিবহনের বাসটি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

বাসচাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর মৃত্যুতে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন তাঁর পরিবার শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

আবরারের স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু তার সে স্বপ্ন রাস্তার ধুলোর সঙ্গে মিশে গেল। সে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফোশনালসে (বিইউপি) ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপ (আইআর) বিভাগে ভর্তি হয়েছিল। আগামী বছর আবারও মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা ছিল তার। ছেলেকে দাফন করতে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এসব বলছিলেন তার মা ফরিদা ফাতেমী।

মঙ্গলবার দুপুরে বিইউপির এডিবি গ্রেড গ্রাউন্ড মাঠে জানাজা শেষে বনানী সামরিক করবস্থানে আববারকে দাফন করা হয়েছে। এ সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় মা ফরিদা ফাতেমী বলেন, ‘আমার বাবাকে কখনো একা ছাড়তে চাইতাম না। ও বলতো, আম্মু তুমি যদি আমাকে একা চলাফেরা করতে না দাও, তবে আমি ইন্ডিপেন্ডেন্ট হবো কীভাবে? সবাই আমার বাবাটাকে অনেক পছন্দ করতো। পরিবারের মাথার মুকুট ছিল সে।’

আবরারের শিক্ষক বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শায়লা সুলতানা বলেন, ‘আবরার নেই এটা ভাবতেই পারছি না। গতকাল দুপুরেই তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সে মনে রাখার মতো একজন ছাত্র ছিল। পড়াশোনা, আচার-আচরণ, খেলাধুলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতাতেও ছিল তার সরব উপস্থিতি।’

ছেলের জন্য মুশড়ে পড়েন বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফ আহাম্মেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক কষ্টের সময় পার করেছি। ছেলেকে কবরে শুইয়ে দেয়ার মতো কষ্ট আর কিছুর সঙ্গে মিলবে না। জীবনের সকল সফলতা যেন একটি ঘটনায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।’

আবরারসহ তারা ছিলেন দুই ভাই। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে ‘এ’ এবং ‘ও’ লেভেল পাশ করে বিইউপিতে ভর্তি হন আববার। ছোট ছেলে আবীদ আহমেদ চৌধুরী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ৮ম শ্রেণির ছাত্র। বসুন্ধরা ডি ব্লকে ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech