চলতি মাসেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি হতে পারে !

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : প্রচণ্ড গরম আর তীব্র দাবদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত। সূর্যের তীব্র খরতাপে পুড়ছে সারাদেশ। ইদানীং মাঝেমধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। প্রচণ্প্রচণ্ডপ্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষ রাস্তাঘাটে কম বের হচ্ছে। অত্যধিক গরমে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা করছেন চিকিৎকরা।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, আরো কয়েকদিন এমন অসহনীয় গরম অব্যাহত থাকতে পারে। এমনকি আগামী মাসেও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে কয়েকদিন। তখন কিন্তু রোজা। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত অবস্থার পরিবর্তন সহজে হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় গরমের প্রচণ্ডতায় রাস্তাঘাটে লোক চলাচল কমে গেছে। যানবাহনের সংখ্যাও আগের তুলনায় কম। আা

এমন অসহ্য গরম থেকে নিজেকে রক্ষা করতে মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলেও স্বস্তি নেই। একটা ছায়া খুঁজে নিতে পশুপাখিকে খুব তৎপর দেখা যায়। কর্মব্যস্ত মানুষ একটু ছায়া পেলেই সেখানে ভিড় করছেন। গরম বেড়ে যাওয়ায় খুব সমস্যা না হলে ঢাকার মানুষ ঘর থেকে খুব একটা বের হচ্ছেন না।


আবহাওয়া অধিদফতরের মতে, ২০ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙ্গামাটিতে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২১ এপ্রিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি, এর আগে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একদিনের ব্যবধানে রাজশাহীতে তাপমাত্রা বেড়েছে এক দশমিক ৮ ডিগ্রি। ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রিকে মৃদু ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রিকে মাঝারি ও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চেয়ে বেশি তাপমাত্রাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলা হয়।

একইভাবে ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০ এপ্রিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি থেকে বেড়ে রোববার ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়। রাজধানীসহ ক্রমেই সর্বত্র তাপমাত্রা বাড়ছে। আকাশে কখনো বৃষ্টির ভাব পরিলক্ষিত হলেও মেঘ হয়ে মাটিতে পড়ছে না। ঝুম বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত গরমের তীব্রতা যে কমবে না, তা মনে করা হচ্ছে।

ইট-পাথরের শহর এই ঢাকা। যেখানে ছায়া খুঁজে পাওয়া মুশকিল। গাছগাছালি আর পাখপাখালির অস্তিত্ব যেখানে স্বপ্নমাত্র। রাজধানীর পানির আধারগুলো নেই। অনেক আগেই ১৬টি খাল গিলে খেয়েছে দখলদাররা। ফরমালিন মার্কা জনপ্রতিনিধিরা সেগুলো উদ্ধারে প্রতিশ্রুতি দিলেও সফল নন। এ খালগুলোসহ ঢাকার জলাশয়গুলো উদ্ধারপূর্বক সংস্কার করা হলে গরমের কবল থেকে নগরবাসী কিছুটা হলেও স্বস্তি পেতেন।এগুলো

গরমের উত্তাপ থেকে রক্ষা পেতে রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনেকে শরবতের নামে যা খাচ্ছেন, তা শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ বৈকি। তার পরও অনেকে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। নিম্ন আয়ের মানুষ এ বড় খরদের। এতে পেটের পীড়াসহ ডায়রিয়া, কলেরা, জন্ডিসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এসবের বেচাবিক্রিতে বাধা দিচ্ছে না কেউ। অথচ

গরম থেকে রক্ষা পেতে বিশুদ্ধ বাতাস দরকার, ঢাকায় যার অভাব প্রকট। এ সময় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ জরুরি। শরীর ঠাণ্ডা রাখে- এমন খাবার শরীরের জন্য সহায়ক। ভেজা কাপড় দিয়ে শিশুদের ঘন ঘন শরীর মুছে দেয়া যেতে পারে। ডাব ও লেবুর শরবত এ সময় বেশি খাওয়া ভালো।

ডিম-গোশত এড়িয়ে স্বাস্থ্যসচেতন অনেকে খাবারের তালিকায় আম-ডাল, করলা, পেঁপের ভর্তা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। গ্লুকোজ খাচ্ছেন কেউ কেউ। শরীরে ঠাণ্ডাভাব বজায় রাখতে কচি ডাবও সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এ সময় ভাঙ্গি ও তরমুজ খাওয়া যায়। শরীরকে সুস্থ রাখতে সব সময় রাস্তার পাশের শরবত-জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

সহসা বৃষ্টি না হলে রাজধানীসহ দেশের তাপমাত্রা আরো বাড়বে বলে আবহাওয়াবিদরা আশঙ্কা করছেন। চলতি মাসে এমনকি আগামী মাসেও দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছার পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছে আবহাওয়া অফিস। এমনটা হলে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে। এ অবস্থায় বিদ্যুতের লোডশেডিং যেন না থাকে, সেদিক সংশ্লিষ্টদের সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি। রমজানে তীব্র তাপমাত্রা থেকে জনজীবনকে রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech