কন্যাশিশুদের বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত জরুরি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : পবিত্র রমজান মাস চলছে। রহমতের ১০ দিন শেষ হচ্ছে। আল্লাহকে স্মরণ করব, তার নির্দেশিত পথে চলব- এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্যে অন্য কিছু করা আর বলার মানসিকতা খুব একটা নেই। কিন্তু দেশব্যাপী অব্যাহত কন্যাশিশু নির্যাতনের বহুরূপী চিত্র বিবেককে নাড়া দেয় বৈকি। করে আহত। বেদনায় নীল হয়ে যেতে চায় শরীর-মন।

যে দেশের নারী ও শিশুরা যত বেশি নিরাপদ, সে দেশ ততই উন্নত ও বাসযোগ্য। ইদানীং আমাদের চারপাশে নারী ও শিশু নির্যাতন যেভাবে জ্যামেতিক হারে বাড়ছে, তাতে আমাদের সমাজ ব্যবস্থার ক্ষত কতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে, সেটা সামনে চলে আসছে। যে শিশু ঠিকমতো কথা বলতে পারে না, দুনিয়ার বুঝে না কিছুই; তারা পর্যন্ত নরপশুদের লালসার শিকার হচ্ছে!

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের তথ্যমতে, বাংলাদেশে বছরের প্রথম সাড়ে চার মাসে (জানুয়ারি থেকে ১৪ মে) ৩৪৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ সময় ১ হাজার ৪৯০ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭০ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়।

সংগঠনটি শিশুদের উপর নির্যাতনের নির্মম ও নিষ্ঠুর ধরনকে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছে। ১৫ মে ‘শিশু অধিকার সুরক্ষা ও অগ্রগতি শীর্ষক’ সেমিনারে এই তথ্য জানানো হয়। জাতীয় সংসদের আইপিডি কনফারেন্স হলে ওই সেমিনারের শিশু অধিকারবিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্যরা অংশ নেন। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সাড়ে ৪ মাসে ৩৪৬ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এর মধ্যে ৩৮ শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়। প্রতিবন্ধী শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২২টি এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১৮টি। ১০ শিশু ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর আত্মহত্যা করে। এ ছাড়া ৩৮ শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার। ভাবতেও তষ্ট রাগে এও কি সম্ভব! এ আমরা কোন সমাজে বাস করছি। কোনো সভ্য সমাজে তো এমনটা ভাবা যায় না। লজ্জা ও ঘৃণায় মাথা ঠুকছেন মানবতা ও মানবাধিকারে বিশ্বাসীরা।

সেমিনারে উপস্থাপিত শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের পরিসংখ্যান যে কাউকে অবাক না-করে পারে না। আইয়ামে জাহেলিয়ার যুগে কন্যাশিশুদের হত্যা করা হতো, কিন্তু সে সময় তাদের উপর এমন যৌন নির্যাতনের ঘটনা জানা যায়নি। মন-মানসিকতায় আমরা কতটা নীচ ও ক্ষুদ্র, এসব বর্বর ঘটনা তা প্রমাণ করছে। এটা আমাদের অধঃপতিত সমাজ ব্যবস্থার নিকৃষ্ট উদাহরণ বৈকি।

যে বা যারা এসব ঘৃণিত ও গর্হিত কাজ করে, তাদের কোনো রকম ছাড় না দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করে আইনের শাসনের বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা দরকার। সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, স্বল্পসময়ের মধ্যে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা গেলে দুর্বৃত্তরা এমন নোংরামি ও অমানবিক কাজ করার দুঃসাহস দেখাবে না ।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধীরা আশকারা পাওয়ায় সমাজে অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এর রেশ টেনে ধরতে হলে যত ক্ষমতাধর হোক না কেন, অপরাধীদের কোনো রকম ছাড় না দিয়ে আইনের সুষ্ঠু প্রযোগের দৃষ্টান্ত স্থাপন জরুরি। পবিত্র রমজান মাসে আমরা আর এমন পাপাচার, অশ্লীল, নোংরা, কদর্য ও গর্হিত কাজের কথা শুনতে ও দেখতে চাই না। দায়িত্বশীলদের কাছে কন্যাশিশুদের বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech