নিজের ভালো যখন পাগলও বোঝে, তখনো আমরা…

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : গণমাধ্যমে গণকান্না যেন থামছেই না। নানামুখী সমস্যা-সংকট গণমাধ্যম কর্মীদের আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে আছে। নিস্তার মিলছে না কিছুতেই। একশ্রেণীর মালিকের খামখেয়ালিপনায় পেশাদার সাংবাদিকরা অনেকটা অসহায়। দ্রব্যমূল্যের নিত্য ঊর্ধ্বগতিতে গণমাধ্যমকর্মীদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

নোংরা রাজনীতির লেজুড়বৃত্তি আর মালিকপক্ষের কারসাজিতে সাংবাদিকদের অধিকার আদায় ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার কার্যকর উদ্যোগ স্তিমিত। সাংবাদিকদের এককালের মর্যাদার প্রতিষ্ঠানগুলো কালক্রমে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ায় নানা ধরনের সংগঠন গজাতে শুরু করে। একসময় তারা আলাদা শক্তি সঞ্চয় করে মহিরূহে পরিণত না হলেও একটা সংগঠিত রূপ পায়।

সাংবাদিকদের মূল সংগঠন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন- ডিইউজে ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজে দুভাগে বিভক্ত হওয়ার পর থেকে সাংবাদিকদের অর্জন ও অধিকার আদায়ের সমন্বিত উদ্যোগে ভাটা পড়ে। শক্তি ক্ষয় হতে থাকে এখান থেকেই। কেউ স্বীকার করুক আর না করুক বাস্তবতা হলো, সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা এর পর থেকেই ম্লান হতে থাকে।

অধিকারের প্রশ্নে কালক্রমে বাড়তে থাকে সাংবাদিকদের নানা সংগঠন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, সাব এডিটর কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, সম্পাদনা সহকারী ফোরাম, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্যাবসহ রিপোর্টারদের বিট ভিত্তিক সংগঠন বিস্তার লাভ করতে থাকে। মনে করা হচ্ছে, এসব সংগঠনের পরিধি যত বাড়ে, সাংবাদিকদের শক্তি ততই ক্ষয় হয়।

এককালে সাংবাদিকরা তাদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য দ্বারা যেকোনো আন্দোলন সহজে সফলে সক্ষম ছিলেন। তাদের অনুসরণ করত ট্রেড ইউনিয়নের অন্য সংগঠনগুলো। সাংবাদিকদের শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে, সামরিক শাসক এরশাদের আমলে লাগাতর সংবাদপত্র বন্ধ রেখে তার শাসন এবং পতন তরান্বিত করা সহজ হয়। সাংবাদিকদের সে ঐক্য, সংহতি ও শক্তি দলবাজির অতলগহ্বরে হারিয়ে গেছে।

সাংবাদিকদের হৃত গৌরব ও ঐতিহ্য যখন হারিয়ে গেছে, তখন সাগর-রুনি দম্পতিসহ প্রায় তিন ডজন সাংবাদিক খুন হন। যাদের বিচারের বাণী কীভাবে নীরবে কাঁদছে, দেশ ও বিশ্ববাসী তা অবলোকন করছে। বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি চালু হওয়ায় সাংবাদিকদের উপর অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা সর্বত্র বেড়ে যায়। বেড়ে যায় পেশিশক্তির নির্মমতা। যার কুফল সাংবাদিকরা ভোগ করে চলেছেন। এর পরও তাদের শিক্ষা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।

আজকের বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের স্মরণ করে দিচ্ছে, তোমরা পেছনে ফিরে তাকাও। বিভক্তির অবসান ঘটাও। নিজেদের হৃত গৌরব, অধিকার ও মর্যাদা পুনঃ প্রতিষ্ঠায় তোমরা আগের জায়গায় ফিরে আসো। তোমরা কি দেখছ না, দেশের সর্বস্তরের অগ্রসর মানুষের দাবি সত্ত্বেও সাংবাদিকদের কার্য়কর ঐক্য না থাকায় সাগর-রুনি দম্পতি হত্যার বিচার তো দূরের কথা, হত্যাকারীরা আজও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। এমনটা আর কত?

ঐক্যই শক্তি, ঐক্যই বল। ঐক্য না থাকলে দুর্বলতা ভর করে।আর প্রতিষ্ঠিত সত্য হলো, দুর্বলদের দিয়ে কিছু্ হয় না। কিছু করতে হলে ঐক্যের যে বিকল্প নেই, সে সত্য সচেতন ব্যক্তি মাত্র জানা। আর পদে পদে ফোঁড় খাওয়া সাংবাদিকদের নিশ্চয় তা অজানা নয়। নিজের ভালো যখন পাগলও বোঝে, তখন আমরা আর কত বিভক্তির বীজ বপন করে নিজের পায়ের নিচের শক্ত মাটি সরাব!

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech