‘কারো প্ররোচনায় মিন্নি গ্রেফতার কিনা, খতিয়ে দেখা দরকার’

  

পিএনএস ডেস্ক : কারও প্ররোচনায় মিন্নিকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, কেউ দোষী হলে তার শাস্তি হোক, সেটা আমরা চাই। কিন্তু কারো প্ররোচনায় মিন্নিকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

বুধবার (১৭ জুলাই) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তিনি এই কথা জানান।

বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, এই ঘটনার গুড অ্যান্ড বেটার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও উপসংহার টানা যাবে না।

গত ২৬ জুন রিফাতকে প্রকাশ্য সড়কে কুপিয়ে হত্যার সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি সারাদেশে আলোচনায় উঠে আসে। পরদিন নিহত শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে যে মামলাটি করেন, তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকেই।

সম্প্রতি মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হত্যাকাণ্ডে পত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়। পরদিনই শ্বশুরের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে মিন্নি দাবি করেছিলেন, তার শ্বশুর ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনায় পড়ে এসব বানোয়াট কথা বলছেন।

পরে মঙ্গলবার মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বুধবার আদালত মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের হেফাজত দিয়েছে পুলিশকে।

এরআগে, এ মামলার এজাহারভুক্ত ছয়জনসহ মোট ১৩ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে পুলিশ। হত্যা মামলার মূল আসামি সাব্বির আহম্মেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সঞ্জিব দাস জানান, ‘বিকাল ৩টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে আসা হয় নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের বিচারকের কাছে মিন্নিকে কী কারণে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মনে হয়েছে সেই বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা মিন্নির সঙ্গে আসামিদের কললিস্ট, বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ, নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের বিষয় ও এজাহারভুক্ত আসামি টিকটক হৃদয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা মামলার রহস্য উদঘাটন ও অধিকতর তদন্তের জন্য মিন্নির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।’

সঞ্জিব দাস বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, রিফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি টিকটক হৃদয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে রিফাত হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় মিন্নি জড়িত ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের আগে এজাহারভুক্ত সব আসামির সঙ্গে বিভিন্ন সময় এই আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রক্ষা করেছে, সেই কললিস্ট তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থাপন করেছেন। এ সময় আদালতের কাছে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক মিন্নির পক্ষে কোনও আইনজীবী না থাকায় তাকেই কথা বলার সুযোগ দেন।’

এই আইনজীবী আরও জানান, “আদালতের বিচারক মিন্নিকে প্রশ্ন করেন, ‘এই মামলায় আপনার কোনও আইনজীবী না থাকায় আপনার বক্তব্য কী?’ এ সময় মিন্নি বলেছেন, ‘রিফাত শরীফ আমার স্বামী। আমি আমার স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত না। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই।

আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।’ ‘এজাহারভুক্ত আসামিদের সঙ্গে আগে থেকেই আপনার যোগাযোগ ছিল এবং আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সম্পর্ক ছিল- সে বিষয়ে আপনার কী বক্তব্য’ বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্নি নিরুত্তর ছিলেন।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আমরা মিন্নিকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম, আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান হোসেন বলেন, ‘রিফাত হত্যা মামলা দেশব্যাপী একটি আলোচিত হত্যা মামলা। এ মামলায় মিন্নিকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।’

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech