বানভাসিদের সঙ্গে চরম তামাশা করছে রাজনৈতিক দলগুলো!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও যশোর, খুলনা, রাজশা্হী ছাড়া দেশের অন্য অঞ্চলগুলোয় বন্যা জেঁকে বসেছে। অথচ উল্লিখিত অঞ্চলে বন্যা তো দূরে কথা, বর্ষার পানির দেখাও মিলছে না। মাঠে আগে যেখানে তিন-চার ফুট পানি হতো, সেখানে তিন-চার ইঞ্চি পানিও নেই! খাল-বিলগুলো এতিমের মতো স্থবির।

দেশের ২৬টি জেলায় বন্যার পানি সবকিছু ডুবিয়ে দিয়েছে। কৃষকের স্বপ্ন-সাদ-আহ্লাদ বলতে যা বোঝায়, সবই কেড়ে নিয়েছে। ধান-পাট এমনকি পাটের জাগও বন্যার পানি কোথায় ভেসে নিয়ে গেছে, তার খোঁজ মিলছে না।পানিবন্দী লাখ লাখ মানুষের খাবার ও বিশুদ্ধ পানিসংকট চরমে। এসব ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরন্ন মানুষের পাশে কেউ দাঁড়াচ্ছে না। বিষয়টি তাদের জন্য পীড়ার কারণে পরিণত হয়েছে।

ইতিমধ্যে দেশের প্রায় অর্ধেক জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। বন্যায় অর্বণীয় ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষক ও জেলে পরিবারের। কৃষকের ধান, পাট, শাক-সবজি ডুবে গেছে। আর বানের পানিতে ভেসে চলে গেছে জেলেদের চাষের মাছ। ফলে উভয়ের মাথায় হাত পড়েছে। এসব হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা। এ দুর্দিনে ত্রাণ তো দূরের কথা, তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কাউকে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না।

সর্বত্র একই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। আর হলো, বানভাসি মানুষের কাছে সময়মতো ত্রাণ না পৌঁছানোর। বন্যাকবলিত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যে কেউই ত্রাণ পায়নি। এসব অভিযোগ সাংবাদিকদের কাছে করছেন স্বয়ং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে বগুড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ত্রাণ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন কজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। এছাড়া বন্যায় আক্রান্ত হওয়ার পর এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো রকম ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন বানভাসি মানুষজন।

বন্যায় পানির স্রোত ও বড় বড় ঢেউ এতটা বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, পদ্মায় চলাচলরত বড় ফেরিগুলোও চালানো সম্ভব হয়নি। দুয়েকটি চলছে কোনো রকমে। ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। নদীর ভাঙ্গন হয় তীব্র। গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, বগুড়ায় বাঁধ ভেঙ্গে অনেক গ্রামে বন্যা দেখা দেয়। এমনকি দেশের ২৫টি নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

কোথাও কোথাও বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও নদীভাঙ্গন বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। কক্সবাজারেও প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। একই অবস্থা সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের। বাঁধগুলো প্রায় প্রতিবছরই ভাঙ্গে। এসব বাঁধ যেন টিকসই হয় এবং বানের পানিতে সহজেই ভেঙ্গে না যায়, সশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের এ ব্যাপারে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া দরকার।

বন্যার পক্ষকাল পার হয়ে গেছে। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সর্বস্তরের মানুষের পাশে আগের মতো দাঁড়ানোর খুব একটা তোড়জোড় চোখে পড়ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো আগে এসব ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকত এবং ঝাঁপিয়ে পড়ত। কিন্তু এবার তাদের মধ্যে সে গতি নেই। দুর্গত মানুষগুলোর জন্য কি তাদের কোনোই দায় নেই? যদি দায় না থাকে, তাহলে জনগণের জন্য যে রাজনীতি; সেটার যে অপমৃত্যু ঘটে। এটাকে জনগণের সঙ্গে চরম তামাশা মনে করছেন প্রবীণ রাজনীতিকরা।

সরকারি অপর্যাপ্ত ত্রাণ ছাড়া সংঘবদ্ধভাবে আগের মতো সামাজিক সংগঠনগুলোর তৎপরতাও দেখা যাচ্ছে না। অবস্থা দেখে মনে হয়, বানভাসি এই মানুষগুলো এ দেশের নয়; তারা অন্য কোনো গ্রহ থেকে এসেছে! মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর আবহমান কালের মানসিকতা থেকে আমরা কি দূরে সরে যাচ্ছি। রাজনৈতিক দলগুলোর এমন আচরণ বানভাসিদের পাশাপাশি সচেতন জনগোষ্ঠীকে ভাবিয়ে তুলছে।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech