কোরবানির চামড়ার মূল্যহীনতা সবকিছুকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : গরিব-দুস্থদের হক নিয়ে এমন সর্বনাশা কাণ্ড সচেতন মানুষকে যারপরনাই অবাক করছে। চামড়ার দাম এভাবে কমে যাওয়ার কুফল গিয়ে সরাসরি পড়ছে গরিব, দুস্থ, এতিম ও মিসকিনদের উপর। পড়ছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর। বিশেষ করে এতিমখানাগুলোর উপর। যদিও চামড়াত পণ্যের দাম আকাশ-ছোঁয়া।

বাণিজ্যমন্ত্রী কয়েকদিন আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সঙ্গে বৈঠক করে চামড়ার দাম ঠিক করে দিলেও ফড়িয়ারা সে দামে চামড়া কিনেননি। তারা অনেক কম দামে চামড়া সংগ্রহ করে। চোরের উপর বাটপারির মতো আড়ৎদাররাও এ সুযোগ নেয়। তারা চামড়া-প্রতি ১০০ থেকে শুরু করে ৪০০ টাকার বেশি দিতে নারাজ।এতে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের লাভের বদলে লোকসানে পড়তে হয়।

দীর্ঘদিন ধরে গরিব, দুস্থ, এতিম ও মিসকিনদের ঠকিয়ে যারা নিজে লাভবান হতো, এবার তাদের গতরে ঘা লেগেছে। যারা ভেড়া, ছাগলের চামড়া কিনছেই না- গরিব-দুঃখীদের এতদিনের ঠকানোর ফল তারা এবার হাতেনাতে পেয়েছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। এটা নাকি তাদের জন্য দরকার ছিল।কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে তারা এখন আবলতাবল বলছে।

এদিকে মৌসুমী চামড়া ক্রেতারা সঠিক দাম না পেয়ে আড়ৎদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলছে। আবার আড়ৎদাররা বলছে, না-বুঝেই নাকি মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনে ঠকছে। এবাবে পরস্পরের অভিযোগ চলছেই। বন্দর নগরী চট্টগ্রামের খুচরা ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পেয়ে নগরীর বিভিন্ন জায়গায় চামড়া ফেলে রেখে গেছেন। অবর্জনা হিসেবে এসব সরিয়ে ফেলছেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। ভাবা যায়!

ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার মূল্য নাকি কমে গেছে। আবার অভিযোগ করছে, ব্যাংক লোন না পাওয়ার। ফড়িরা বলছেন, চামড়ার বকেয়া টাকা না পাওয়ার কথা। এসব যারা বলছে, তাদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না অভিজ্ঞ মহল। কেউ আস্থা রাখতে পারুক আর না-পারুক, কোরবানির চামড়ার প্রকৃত হকদারদের এভাবে বঞ্চনার দিকে ঠেলে দেওয়ার মতো অপরিণামদর্শী কাজ মেনে নেওয়া যায় না।

যেখানে চামড়া দিয়ে পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়েছে, সেখানে চামড়ার দাম এতটা কমে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না। এটাকে শুভঙ্করে ফাঁকি মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চোরাচালানকে উৎসাহী করা এবং ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করার সুদূরপ্রসারীর ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করছেন দেশপ্রেমিকরা। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের একজন এর সঙ্গে যুক্ত।

আগে পশু কোরবানির পর চামড়া ক্রেতাদের জ্বালাতন ছিল অসহ্য। কয়েক বছর এসব নেই। নেই চামড়ার কাঙ্ক্ষিত দামও। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এতিমখানায় চামড়া দিয়ে জামেলা এড়াতেন কোরবানিদাতারা।কিন্তু কয়েক বছর যাবৎ বিধিবাম। গরিব, দুস্থ, এতিম ও মিসকিন হক নিয়ে একটি মহল সর্বনাশা খেলায় মেতে ওঠে। এটা নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা হচ্ছে।

মানুষ দেখে আসছে, চামড়াজাত পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েই চলেছে। অথচ বৃহৎ মৌসুমে কোরবানির চামড়া পানির ধরেও বিক্রি হচ্ছে না! চামড়া ডাস্টবিনে চলে যাচ্ছে। রাস্তার পাশে অযত্ন-অবহেলায় পাড়ে থাকছে! রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে একই চিত্র! দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নত হচ্ছে বলে স্লোগান উঠছে তখন কোরবানির চামড়ার মূল্যহীনতা সবকিছুকে ম্লান করে দিচ্ছে। করছে প্রশ্নবিদ্ধ।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech