সড়কগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা সময়ের দাবি

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা জ্যামেতিক হারে বাড়ছে।এবারের ঈদ-উল আযহায় সড়ক, রেল ও নৌপথে ২৪৪টি দুর্ঘটনায় ২৫৩ জন নিহত ও ৯০৮ জন আহত হন। আজ রাজধানীর ডিআরইউ সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঈদ-যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবার সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ঈদের আগে ও পরে ১২ দিনে ওইসব মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। তবে এর মধ্যে সড়ক পথের দুর্ঘটনা যে বেশি, সেটা্ সহজেই ধারণা করা যায়। আজও কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। গতকাল নরসিংদীতে প্রাণহানি ঘটে নব দম্পতিসহ ৫ জনের। এর আগের দিন একই পরিবারের পাঁচজন প্রাণ হারান সড়কে।

এভাবে মৃত্যুর মিছিল সড়কে অব্যাহত রয়েছে। একেকটি দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর সচেতন জনগোষ্ঠী কদিন মাতামাতির পর একসময় সব যেন ভুলে যায়। কিন্তু ভুলতে পারে না হতভাগা স্বজন হারানোরা। তারা বুকে পাথর চাপা দিয়ে সয়ে যায় যেন। কিন্তু যে পরিবারের উপার্জনক্ষমরা এতে প্রাণ হারান, সে পরিবারটি বিপাকে পড়ে। আবার আহতের চিকিৎসা দিতেও তারা ফতুর হন। দুভাবেই পরিবারটি পথে বসার উপক্রম হয়।

নরসিংদীর দুর্ঘটনাটি রাতে ঘটে। শ্যামলি পরিবহনের একটি বাসের চালক বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। রাস্তা খালি পেলে অধিকাংশ চালকের হুঁস থাকে না যেন। কিন্তু এমনটা আর কত? কত মায়ের বুক খালি হবে অকাতরে। কত স্ত্রী তার স্বামীকে হারাবে অকালে। কত সন্তান বাবাকে হারিয়ে এতিম হবে চিরতরে?

একটি দুঘটনার পর একে অপরকে দায়ী করে পার পাওয়ার চেষ্টা করে। কাউকে দায়ী না করে আমাদের কাছে যে অস্ত্র আছে, সেটির আন্তরিক ব্যবহার হলে সড়কে মৃত্যুর মিছিল অনেকটা কমানো সম্ভব বলে মনে করেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।এতে অপরাধটা কার, সেটার প্রমাণও সহজে মিলবে। কারণ নির্ণয় ও বিচার কাজও সহজ হবে। সর্বোপরি কমবে দুর্ঘটনা ও অপরাধ।

অভিজ্ঞ মহলের মতে, রাজধানী মহানগরীসহ সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে এ সুফল পাওয়া যাবে। এতে সড়কে ট্রাফিক পুলিশের দরকার পড়বে না। সিসি ক্যামেরায় দেখে আইন ও নিয়ম ভঙ্গকারী এবং সড়কে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শনাক্ত করা যাবে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনা যাবে। যেটা বিভিন্ন দেশে চালু আছে।

বর্তমান ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ডিজিটাল সরকার বলতে, ভাবতে ও পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে। সড়কে ডিজিটালের ছোঁয়া লাগিয়ে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা হ্রাস করে রাষ্ট্রের মূল্যবান অর্থ যেমন সাশ্রয় করা যাবে তেমনি সড়কে অপরাধ প্রবণতার চিত্রও পুলিশ প্রমাণসহ সহজে পেয়ে যাবে।এতে চালকরা গাড়ি চালাতে যারপরনাই সতর্ক ও সচেতন থাকবে। এতে হ্রাস পাবে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

সড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর মিছিল থামাতে এবং উৎসব-আয়োজনে ঘরে ঘরে কান্নার মাতম রোধে সর্বোপরি সড়কগুলো অপরাধীদের কবল থেকে রক্ষায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের সড়ক-মগহাসড়কগুলো উন্নতমানের সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা সময়ের দাবি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহলসহ ডিজিটাল সরকারের ভেবে দেখা অতীব জরুরি বলে মনে করছে সচেতন জনগোষ্ঠী।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech