কাঁদছে মেঘ, নীরবে কাঁদছে সাগর-রুনি দম্পতির বিচারের বাণী; কিন্তু আর কত!

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত সাত বছরেও শেষ না হওয়ায় তার ব্যাখ্যা দিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। ২০ অক্টোবর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আগামী ৬ নভেম্বর তাকে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পতির হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন সহজ হবে, আসল খুনিরা সামনে আসবে এবং অর্ধযুগের বিচারের বাণী নীরবে কাঁদার অসহনীয় অবস্থা থেকে সাংবাদিক সমাজ পরিত্রাণ পাবে বলে মনে করেন আইনজ্ঞরা।

এই মামলার আসামি তানভীরের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দিয়েছেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সরোয়ার হোসেন বাপ্পী আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতে তানভীরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। ২০১২ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন মেহেরুন রুনির ছোট ভাই নওশের আলম।

সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৬৮ বারেও জমা দিতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি নিয়ে সাংবাদিক সমাজসহ পুরো জাতি যারপরনাই চিন্তিত। দীর্ঘ সাত বছরেও এটির কোনো কিনারা বা সুরাহা না হওয়ায় নিহতদের সহকর্মী সাংবাদিক সমাজসহ সচেতন জনগোষ্ঠীর মতো আসামীরাও এ নিয়ে যে উদ্বিগ্ন, সে সত্য সামনে চলে আসছে হাইকাটে ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার পর কেবল সাংবাদিক সমাজই নয়, পুরো জাতি বিচারের ন্যায়সঙ্গত দাবিতে রাস্তায় নামে। অন্য কোনো ক্ষেত্রে এমন আন্দোলন কমই হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে লাগাতার সাংবাদিক আন্দোলনে সর্বস্তরের সাংবাদিকরা অংশ নেন।বিক্ষোভ-সমাবেশ, অবরোধ, মানববন্দন, কালো পতাকা মিছিল, অবস্থান, স্মারকলিপি, ঘেরাও, অনশন কর্মসূচি সবকিছু পালন করা হয়েছে। কোনো কিছুতেই কাঙ্ক্ষিত ফল যে আসেনি, সে সত্য তো সবার সামনে।

সাংবাদিক আন্দোলন এমন দানাবাঁধে যে, সাংবাদিক ঐক্য দ্বারপ্রান্তে চলে যায়। যে আন্দোলনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজে উভয় অংশ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন- ডিইউজে উভয় অংশ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি- ডিআরইউ, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, সাব এডিটের কাউন্সিল, সম্পাদনা সহকারী ফোরাম অংশ নেয়।

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাসহ অপঘাতে নিহত সব সাংবাদিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে রাজপথে লাগাতার আন্দোলন হয়। কিন্তু আজও কাঙ্ক্ষিত ফল ন্যায়বিচার পায়নি সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির সহকর্মী সাংবাদিক সমাজসহ তার পরিবার। বিশেষ করে নিহত দম্পতির একমাত্র অবুঝ সন্তান মেঘ পায়নি পিতৃ-মাত্র হত্যার বিচার।দীর্ঘসূত্রতায় সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে যে, আদৌ বিচার পাওয়া যাবে কিনা।

দুঃখজনক হলেও সত্য, সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পতি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৬৮ বারেও জমা দিতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। এর চেয়ে বেদনার আর কিছু হতে পারে না। কী এক অজানা কারণে এটির এ দশা, তা ভেবে কূল পাচ্ছেন না নিহতদের পরিবারসহ সচেতন জনগোষ্ঠী ও সাংবাদিকসমাজ।রহস্যজনক কালক্ষেপলণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন জন্ম দিচ্ছে।বিচারের সূত্রতায় কাঁদছে অবুধ শিশু মেঘ, কাঁদছে সাগর-রুনি দম্পতির বিচারের বাণী, কিন্তু আর কত!


যেখানে সাগরে সূঁই হারিয়ে গেলে, সেটা উদ্ধা্রের মতো ক্ষমতা দেখাতে সক্ষম দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেখানে সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পতির ল্যাপটপটি আজও উদ্ধার না হওয়ায় বিষয়টি অপরাধ বিশেষজ্ঞদের যারপরনাই ভাবাচ্ছে।তারা মনে করছে, এটা ইচ্ছাকৃত করা হচ্ছে।পর্দায় অন্তরালের অদৃশ্য শক্তির কারসাজিতে এটা করা হচ্ছে বলে অভিমত অভিজ্ঞ মহলের।যদিও আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই, তবে জনমনে চিহ্নিত আসল খুনিদের চৌদ্দ শিকে আনতে কেন সময় নেওয়া হচ্ছে, সেটা বারবার সামনে চলে আসছে।

আশ্চার্যজনক হলেও প্রতিষ্ঠিত সত্য, অর্ধযুগ আগে দুটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পতির অপঘাতে মৃত্যু ঘটে। শুরু থেকে ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের একটির সহকর্মীরা নিয়ম করে সুষ্ঠুবিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করে। আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে আয়োজিত জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সমাবেশে হামলে পড়ে! দুটি প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের দুরকম আচরণ সচেতন জনগোষ্ঠীকে ভাবালেও দায়িত্বশীলদের ভূমিকা কেবলই রহস্যের জন্ম দিচ্ছে।

আশার কথা, অবশেষে সর্বোচ্চ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেছেন। আগামী ৬ নভেম্বর তাকে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন হাইকোর্ট।এই একটি হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার এবং চিহ্নিত খুনীরা বিচারের আওতায় না আসায় সাংবাদিকদের উপর হামলা-মামলা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে।অপরাধীরা মনে করছে সাংবাদিকদের একহাত দেখিয়ে পার পেয়ে যাওয়া সহজ।এসব থেকে সাংবাদিকদের মুক্তি দিতে সাগর-রুনি দম্পতির হত্যার কারণ উদঘাটন এবং ন্যায়চিবার পাওয়া সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে সাগর-রুনি দম্পতির বিচারকাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়া সহয়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech