গণমাধ্যমজুড়ে শুভঙ্করের ফাঁকি- ৭

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বেলা ৩টা থেকে দৈনিক বর্তমানে আন্দোলন চলছে। পাওনা-দেনা আর চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার আন্দোলন-সংগ্রাম সাংবাদিকদের প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা।এমন ঘটনা থেকে কবে মুক্তি মিলবে, কেউ বলতে পারে না। তবে জীবনযুদ্ধে হতাশ অনেকেই এটাকে নিয়তির লিখন বলে সান্ত্বনা খোঁজেন।তাদের মতে, সাংবাদিক ঐক্য নাকি পারে এর সহজ সমাধান দিতে।

ইসলামি ঘরানার দুজন সাংবাদিক চাকরি হারিয়ে আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে দ্বার-দেনা করে আলাদাভাবে দুটি বাস কেনেন। একজনেরটা সুনামগঞ্জের জাকির নামের এক ছাত্রদল নেতা বাসটি গায়েব করে দেন। সঙ্গে জাকিরও লাপাত্তা। তার টিকিটিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আরেকজনেরটা নিয়ে নানা ধরনের ঝক্কিঝামেলার পর এখন ছেড়ে দিতে পারলেই তিনি বাঁচেন।

প্রথমজন বাস হারিয়ে এবং আত্মীয়স্বজনের দেনা এবং পরিবারের আর্থিক অনটনে দিশেহারা। কদিন আগে তিনি চলার পথে মাথাঘুরে পড়ে যান।পরে লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।ইস্টওয়েস্ট গ্রুপের এক সাংবাদিক একটি বাস কিনে ‘ছেড়ে দে মা কাঁদি’ অবস্থার মুখোমুখি।পেশাগতভাবে জীবনযুদ্ধে ঠিকতে না পেরে তিনজনই ভিন্নপথ বেঁছে নিতে গিয়ে আরো বেশি বিপাকে পড়েন।হায় রে নিয়তি।

এমন দেনার দায় এবং ঢাকায় ভাড়ায় থাকা সংবাদকর্মীদের বাড়িওয়ালা থেকে শুরু করে পাড়ার মুদি দোকানির সঙ্গে হরহামেশা জামেলা লেগেই থাকে।যথাসময়ে বেতন না পাওয়ায় এবং সময়মতো ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়। এসব আর্থিক অনটন ও সমস্যা সহ্য করে যেসব নারী ধৈর্য ধরে সাংবাদিকদের ঘর-সংসার করছেন, তাদের সাধুবাদ জানাতেই হয়।

অনেকের মতে, আগে সাংবাদিকদের এমন করুণ অবস্থা ছিল না।তাদের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধাবোধ ছিল।ছিল সম্মানও।এখনো আছে বটে, তবে সেটায় কিছুটা হলেও ঘূণে ধরেছে বৈকি। হালে সাংবাদিকতার নামে যা হচ্ছে, তাতে পেশাদার সাংবাদিকরা বিব্রত। কিছু লোক এ মহৎ পেশার আড়ালে অসৎ কাজ করে এটির ঐতিহ্য ও সুনামকে ম্লান করে দিচ্ছে। পেশাদাররা যা ঘৃণা করে।

সাংগঠনিকভাবে সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তি এ পেশার মর্যাদা, অধিকার ও ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।ফলে পেশার মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিতে সাংবাদিকদের ঐক্য সময়ের দাবি হিসেবে বারবার সামনে চলে আসছে।সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য না থাকায় একশ্রেণীর মালিক ইচ্ছেমতো সংবাদকর্মীদের ঠকিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে।

ইদানীং দেখা যাচ্ছে ভূমিদস্যু, কালো টাকার মালিক ও অপরাধ জগতের লোকজন গণমাধ্যমের মালিক সাজছে। অথচ তারা সংবাদকর্মীর ঠকানোর দিক দিয়ে ওস্তাদ। একদিকে গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের পাহাড়সম অপকর্ম ঢাকার অপচেষ্টা করছে, পাশাপাশি সংবাদকর্মীদেরও ঠকাচ্ছে। একযাত্রায় এসব করে তারা আর কত পার পাবে!

সাংবাদিক ঠকানোর মিছিল এভাবে কেবলই জ্যামেতিক হারে বাড়ছে। এদের রেশ টেনে ধরার জন্য এবং সাংবাদিকদের হৃত গৌরব, মর্যাদা, ঐতিহ্য ফিরে এনে তাদের অধিকার শতভাগ সুনিশ্চিতে ঐক্যের বিকল্প নেই।অন্যথায় বাসাবাড়ি, পথেঘাটে অপমান-অপদস্ত, নিহত হলে সাগর-রুনি সাংবাদিক দম্পতির মতো বিচারের নামে প্রহসন এবং কতিপয় মালিকপক্ষ দ্বারা অবিচারের সম্মুখীন কপালের লিখনের মতো নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকবে।গণমাধ্যমে চলমান শুভঙ্করের ফাঁকি ও নৈরাজ্য থেকে মুক্তি পেতে সাংবাদিক ঐক্য টনিকের মতো ফল দেবে মনে মনে করেন প্রবীণ সাংবাদিক নেতারা।-চলবে....


প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech