গণমাধ্যমজুড়ে শুভঙ্করের ফাঁকি- ৯

  


পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : সংবাদপত্র তথা গণমাধ্যম গণমানুষের কথা বলে- এটা জানা কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে এ মাধ্যমে কর্মরতদের আর্তকথন বা হাঁড়ির খবর কজন রাখেন? আর কত এটা অজানা থাকবে? নিত্য আর্তপীড়নের খবর আর কত লুকিয়ে থাকবে! অন্যের সুখ-দুঃখ-বেদনার নিখুঁত বর্ণনাকারীরা আর কত নিজের কষ্ট না বলে জাতের মেয়ের মতো বুকে ধারণ করে রাখবেন।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের আঙ্গিনায় যার সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়- বেশির ভাগের মধ্যেই হতাশার সুর। চাকরি নেই, চাকরি থাকলে বেতন নেই- বেতন থাকলেও নিয়মিত নেই| এর মধ্যে আবার ছাঁটাইয়ের খড়গ ঝুলে আছে।ইসলামি ঘরানার একটি পাঠকপ্রিয় দৈনিকে দীর্ঘদিন বেতন বকেয়া।তার ওপর নাকি ছাঁটাইয়ের অপচেষ্টা চলছে।যদিও দৈনিকটি কয়েক বছর যাবৎ সরকারি বিজ্ঞাপন বঞ্চিত।এমন বঞ্চনার শিকার আরো কয়েকটি ভিন্নমতের দৈনিক।

সরকারি বিজ্ঞাপন ও অন্য সুযোগ-সুবিধা নিয়মিত পাওয়ার পরও দৈনিক আজকালের খবরে মালিক পক্ষ নৈরাজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদকর্মীদের বেতন-ভাতা না দিয়ে মাস্তানী কায়দায় চাকরিচ্যুৎ করার অভিযোগ পওয়া গেছে।জনৈক সাংবাদিক নাকি এসব কাজে আঞ্জাম দিচ্ছেন।দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন না দিয়ে উল্টো তিনি অনেকের কাছ থেকে বিনা বেতনে কাজ করার অঙ্গীকারপত্র জোরপূর্বক স্বাক্ষর করে নিচ্ছেন! মগের মুল্লুক কাকে বলে।

দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিষ্ঠানটিতে ফেরা ওই সাংবাদিক মালিকপক্ষের হয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে সাংবাদিক-কর্মচারিদের চাকরিচ্যুতি করছেন। ন্যায্য পাওনাদি না দিয়ে একরকম গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া অপচেষ্টা অব্যাহত।প্রতিষ্ঠানটিতে চলমান এমন নৈরাজ্য ও শুভঙ্করের ফাঁকির কথা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও প্রেস ক্লাবের আঙ্গিনায় সংশ্লিষ্টদের মুখে মুখে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, এ দৈনিকটিতে একসময় মফস্বল সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। এখানে কাজ করতেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক মাসুক চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার আহমেদ সেলিম রেজা, ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার শামসুদ্দিন আহমেদ, রিপোটার্স ইউনিটির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক মেহেদী আজাদ মাসুমসহ অনেকে। যার শ্রম ও ঘামে পত্রিকাটি আলোর মুখ দেখ তিনি হলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান প্রতিবেদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু। একসময় এটির খুবই কাটতি ছিল। বেশি চলত সিলেটে।

সে দৈনিকটির মালিকপক্ষের অর্থ-বিত্তের অভাব নেই। সরকারি ট্যাক্স ফাঁকির দিক দিয়েও নাকি পিছিয়ে নেই।নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের ফাঁকির কিঞ্চিত খবর তো সংবাদকর্মীদের জন্য পীড়ার কারণে পরিণত।গণমাধ্যমে কর্মরতদের সঙ্গে দৈনিক আজকালের খবর কর্তৃপক্ষের বেতন-ভাতা ও পাওনাদি এবং চাকরিচ্যুতির অনৈতিক আচরণ এ প্রতিষ্ঠানে অতীতে কর্মরতদের ব্যথিত করছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতদের মুখ থেকে নির্যাতনের হরেক রকম বিবরণ শুনে সাংবাদিক নেতারা বিস্মিত।দুঃখের ব্যাপার হলো, সবরকম সুবিধাপ্রাপ্ত এবং সরকার তথা দেশকে নিয়ম ও হিস্যা মতো কর না দিয়ে পার পেয়ে সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একই রকম আচরণ করছে মালিকপক্ষ। কর্মরতদের যে বিনিময় দিতে হয় এবং তা হয় প্রচলিত আইনে, এ বাস্তব দিকটি কার্যকরের অভাবে গণমাধ্যমজুড়ে অনৈতিকতার খেলতামশা নৈরাজ্য সৃষ্টি ও শুভঙ্করের ফাঁকির পথ উন্মুক্ত করছে।যার রেশ টেনে ধরা জরুরি।


প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech