পিঁয়াজ সিন্ডিকেট ক্যাসিনোর চেয়ে শতগুণ বেশি অপরাধী

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : পিঁয়াজ নিয়ে ধোঁকাবাজি করে অসৎ ব্যবসায়ীরা পার পাওয়ায় এর ভাইরাস অন্য পণ্যের উপর পড়তে শুরু করেছে। হাট-বাজার, দোকানপাট, আড়ত এমনকি পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেও যেখানে পিঁয়াজের বিন্দুমাত্র কমতি নেই, সেখানে সিন্ডিকেট হাজার হাজার কোটি টাকা প্রকাশ্যে লুটে নিয়ে গেছে দায়িত্বশীলদের চোখে ধুলা দিয়ে।

এ সংবাদটি যখন লিখছিলাম, তখন বাসা থেকে গিন্নি ফোন দিয়ে বলে ‘কয়েক কেজি লবণ কিনে নেওয়ার জন্য। বুয়া নাকি বলেছে, লবণের কেজি দেড় শ টাকা!’ এটা ভুয়া কথা, তা গিন্নিকে বুঝিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না।দায় আর জবাবদিহি থাকলে প্রি পাওয়া আয়োডিন মিশিয়ে লবণ ১৫ টাকার বেশি কেজি বিক্রি করার কথা নয়।অথচ কক্সবাজারে চাষিরা লবণের সর্বোচ্চ মূল্য পান ১০ টাকা কেজি।

সুষ্ঠু ব্যবস্থা, সঠিক নজরদারি, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলদের মনিটরিংয়ের অভাবে এত বড় গণডাকাতি সংঘটিত করে পার পেয়ে যাচ্ছে বর্গির দল।পিঁয়াজ নিয়ে ঘটে যাওয়া লঙ্কাকাণ্ডটি মগের মুল্লুকের কাকতালীয় ঘটনাকেও হার মানিয়েছে সবদিক দিয়ে।প্রকাশ্যে সর্বস্তরের মানুষের পকেট কেটে দায়ীরা পার পেয়ে যাওয়ায় অন্য পণ্যে একই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।

পিঁয়াজ সিন্ডিকেট অপরাধের শাস্তি না পেয়ে পার পেয়ে যাওয়ায় অসৎ ব্যবসায়ীরা এটাকে লুপে নিয়েছে।তারা বাড়িয়ে দিচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দরদাম। ধোঁকা দিয়ে দায়িত্বশীলদের বোকা বানিয়ে আখেরি কামাই করে নিয়েছে ব্যবসায়ী নামের হাল জামানার দস্যু, বর্গি ও ডাকাতের দল। এদের ব্যবসায়ী বললে ব্যবসায়ীদের অবমাননা করা হবে।কারণ এখনো কিছু সৎ ব্যবসায়ী আছেন।

ধোঁকাবাজদের গোডাউনে মজুদ রাখা পিঁয়াজ পচা শুরু হওয়ায় এগুলো রাতের আঁধারে সরিয়ে ফেলছে।দাউদকান্দিতে এবং এর আগে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে প্রচুর পচা পিঁয়াজ পাওয়া গেছে। গুদামজাত করা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচে যাওয়ার পর তা কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয় চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা। খাতুনগঞ্জের পাশে কর্ণফুলী নদীসংলগ্ন চাকতাই খাল যেন পচা পিঁয়াজের ভাগাড়।

বাণিজ্য ও কৃষি বিভাগের হিসাবমতে, গত বছরের উদ্বৃত্ত মিলিয়ে দেশে পিঁয়াজের ঘাটতি ছিল না। বরং বাড়তি ছিল। তা যে ছিল, বাজারে ব্যাপক উপস্থিতি এবং কর্ণফুলী নদী এবং কুমিল্লার দাউদকান্দির ভাগারে ফেলে দেওয়া পিঁয়াজ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।এর চেয়ে বড় প্রমাণ সব বাজারে পচা পিঁয়াজের আধিক্য। পচা পিঁয়াজের সূত্র ধরে এগোলো সিন্ডিকেট ধরা সহজ হবে।

একটি মহল বলার চেষ্টা করছে, মিয়ানমার থেকে আমদানী করা পিঁয়াজ যাচ্ছে। কেউ যদি চর্ম চোখে নিজের মতো পচা-নষ্ট পিয়াজ আনে, তবে তা তো পচবেই।এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, অপুষ্ট পিঁয়াজ পচে।পুষ্ট পিঁয়াজ কখনো এবং সহজে পচে না। আমরা কৃষকের সন্তান।এসব আমাদের দেখা ও জানা।মূলত আমদানিকারক ও আড়তদারদের কারসাজিতে লঙ্কাকাণ্ডের সৃষ্টি।

সূত্রমতে, মিয়ানমারে পিঁয়াজের কেজি ১২ টাকা। আমদানি খরচসহ বাজারজাত পর্যন্ত মোট খরচ কেজিপ্রতি ৩০ টাকা। অন্য দেশ থেকে আনলে এ খরচ সর্বোচ্চ ৪০ টাকা পড়ে। সে পিঁয়াজ ২৫০ থেকে ২৮০ পর্যন্ত যারা নিয়ে যেতে সফল ও সক্ষম হয়েছে, তাদের দিনদুপুরে ডাকাত বললে কমই বলা হয়। এ ডাকাতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এর খেসারত ক্রেতা সাধারণকে পদে পদে আরো দিতে হবে।

বাণিজ্য সচিব বলেছেন, আড়াই হাজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।এত লোককে জরিমানা করার কোনো দরকারই ছিল না। ডজনখানেক রুই-কাতলাকে হয় ক্রসফায়ারে দেওয়া, না-হয় দৃষ্টান্তমূলক অন্য শাস্তি দেওয়া অথবা চুল কামিয়ে বা মাখা মুণ্ড করে অলকাতরা মেখে বাজারে ঘুরানো।শীর্ষদের এর আওতায় আনা হলে নিচেরগুলো এমনিতেই বাপ বাপ করে ঠিক হয়ে যেত।

পিঁয়াজ নিয়ে যে বা যারা সর্বনাশা খেলায় মেতেছে, তারা ক্যাসিনোর চেয়ে সবদিক দিয়ে বড়বেশি পাপি ও অপরাধী। কেননা, ক্যাসিনোতে যায় নষ্ট-ভ্রষ্টরা। এর সঙ্গে যুক্ত সবাই খারাপের তালিকাভুক্ত। আর এসব হয় অতি গোপনে।কিন্তু পিঁয়াজ খাদকরা তো তা নয়। তাহলে পিঁয়াজ নিয়ে যারা সাধারণ মানুষের পকেট প্রকাশ্যে কেটেছে, তাদের শাস্তি ক্যাসিনোর জুয়াড়িদের চেয়ে শতগুণ বেশি হওয়া সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন