কুঁড়েঘর এখন কবিতায় আছে বাস্তবে পাওয়া যায় না: তথ্যমন্ত্রী

  

পিএনএস ডেস্ক : তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে দুটি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। একটি হচ্ছে দিনবদল, আরেকটি হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজকে দিনবদল হয়েছে। এখন দেশের কোনো শহরের অলিগলিতে কিংবা গ্রামের মেঠো পথে মা আমাকে একটু বাসি ভাত দেন এই ডাক শোনা যায় না। বাসি ভাতের সমস্যা আমরা সমাধান করতে পেরেছি। এখন কবিতায় কুঁড়েঘর আছে বাস্তবে কুঁড়েঘর খুঁজে পাওয়া যায় না’।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লক্ষ্য হচ্ছে শুধুমাত্র বস্তুগত উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত দেশ গঠন করা নয়, পাশাপাশি একটি উন্নত জাতিও গঠন করা। উন্নত জাতি গঠন করার জন্য মেধা-মূল্যবোধ, দেশাত্মবোধ, মমত্ববোধের সমন্বয় প্রয়োজন।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নও পূরণ হয়েছে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১৫ কোটি মোবাইল সিম ব্যবহারকারী রয়েছে। ভোলার মনপুরা থেকে কৃষক ভাই জমিতে দাঁড়িয়ে পোকার ছবি তুলে সদরের কৃষি অফিসারের কাছে পাঠিয়ে সরাসরি পরামর্শ নেন পোকা দমনে কোন ওষুধ দিতে হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপে গত এক শ বছরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু সেখানে প্রতি এক শ বিয়ের মধ্যে পঞ্চাশটি ভেঙে যাচ্ছে। ইউরোপের কোনো মহাসড়কে যখন দুর্ঘটনা ঘটে পাশ দিয়ে শত শত গাড়ি চলে যায়, কেউ একপলক তাকায় না। তাদের অনেক মেধাবী সন্তানরা ভালো স্কুলে পড়ে, তারা অনেক ভালো শিক্ষা পায়, কিন্তু তারা যখন বড় হয় তখন মা-বাবাকে বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে দিয়ে দেয়। আমরা উন্নয়ন চাই, তবে সমাজকে ইউরোপের মতো সেই জায়গায় নিয়ে যেতে চাই না।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশ নয়, মধ্যম আয়ের দেশ। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এ দেশে মাথাপিছু কৃষিজমির পরিমাণ পৃথিবীতে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ আজকে পৃথিবীকে অবাক করে দিয়ে খাদ্যে উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তরিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে আমরা বাঙালিরা হয়তো ধনী নই, কিন্তু মেধার দিক দিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশ ও জাতি থেকে আমরা ধনী। ইউরোপের বাইরে প্রথম যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গাছের যে প্রাণ আছে তা প্রথম যিনি আবিষ্কার করেন তিনি বাঙালি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু, আজ থেকে বিশ বছর আগে পৃথিবীর সর্বোচ্চ ভবন শিকাগোর চিয়ার্স টাওয়ারে স্থপতি বাঙালি ড. এফ আর খাঁন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫১ বছরের পথ চলায় চুয়েট বহু প্রকৌশলী তৈরি করেছেন। যারা শুধু বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে অবদান রাখছে তা নয়, তারা সমস্ত পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দেশের উন্নয়ন সমৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech