আন্তর্জাতিক আদালতে আমাদের যেতে বাধা কোথায়

  

পিএনএস (মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রধান) : বিশ্ব মানবাধিকার দিবস আজ। ১৯৪৮ সালের এই দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করা হয়। ১৯৫০ সালে এ দিনটিকে জাতিসংঘ বিশ্ব মানবাধিকার দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়। তখন থেকেই বিশ্বজুড়ে এ দিনটি পালন করা হচ্ছে। যদিও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার লঙ্ঘনের উল্লম্পন চলছে। চলছে পেশি শক্তির নৈরাজ্য ও নৈরাশ্যমূলক আচরণ।

বিশ্ব মানবাধিকার দিবসকে সামনে রেখে আমাদের পাশের দেশ ভারতে নাগরিকদের দেশ-ছাড়া করার বিল পাস করা হয়েছে। যে বিলের পরতে পরতে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প বিরাজমান। সে দেশের সংখ্যালঘিষ্ঠ মানুষের জন্মগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করার সাংবিধানিক বৈধতা দেয়া হয়। মানুষকে মানুষ হিসেবে না দেখে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে আইনের পরিণত করা হচ্ছে, যা ব্যক্তির মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।

আমাদের পাশের আরেকটি দেশ নিজ দেশের সংখ্যালঘিষ্ঠ নাগরিকদের অর্কত্য নির্যাতন করে দেশ ছাড়া করে। তাদের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের হেন অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন নেই, যা করা হয়নি। নারী-শিশুরাও যা থেকে রক্ষা পায়নি। জাতিগত এ নিপীড়নের সময় অসংখ্য নারীকে ধর্ষণ করা হয়। করা হয় হত্যা।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এসব নির্যাতনের স্টিম রোলার চালায়। ঘরে আটকে রেখে দরজায় তালা দিয়ে আগুনে পুড়ে দেওয়ার নির্দয়-অমানবিক বর্বর অসংখ্য ঘটনা মিডিয়ায় এসেছে। সীমাহীন নির্যাতনের মুখে জীবন নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা হাজারো রোহিঙ্গা কুমারী জানেন না, তার সন্তানের জন্মদাতা কে?

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনযজ্ঞ এতটাই সীমা ছাড়িয়ে গেছে যে, সেখানে ঘর থেকে ধরে নিয়ে পুরুষ লোকদের জবাই করে হত্যা করা হয়। শিশুদের হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। নারীদের করা হতো পালাক্রমে ধর্ষণ। রোহিঙ্গা নারীদের কাছে এসব ভয়ানক ঘটনার বিবরণ শুনে চোখের পানি ধরে রাখা দায়।

সীমান্তে প্রায়ই বাংলাদেশীরা প্রাণ হারাচ্ছেন বিএসএফের গুলিতে। কোনোরকম পূর্ব সতর্কতা ছাড়া সরাসরি বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ফালানী নামক এক কিশোরীকে হত্যা করে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে রাখার চিত্র মিডিয়ার কল্যাণে বিশ্ববাসী প্রত্যক্ষ করেছে। এমন হাজারো ঘটনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে এভাবে আমাদের মানবাধিকারের বারোটা বাজানো হচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে আমাদের মরুকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। ৫৪টি অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। অথচ এগুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে বাধা কোথায়?

আশার কথা, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আদালতে রোহিঙ্গা নির্যাতনের মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। চলবে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আমাদের জন্য অপেক্ষা না করে রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে জাতিগত নিধনের দায়ে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিতে প্রথম দেশ হিসেবে এগিয়ে আসে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। তারা মিয়ানমারকে দায়ী করে মামলা করে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে)। জাতিসংঘ যেখানে বিচারক প্যানেল ঠিক করে দেয়।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জাতিগত নিধন নিয়ে বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে আজ বিচারকাজ শুরু হয়েছে। দুষ্টের দমন সিষ্টের পালনে যা ফল দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। মানুষের মানবাধিকার নিয়ে যারা জুয়া খেলছে, চালাচ্ছে পেশিশক্তির কার্যক্রম, তাদের জন্য এটি উচিত শিক্ষা ও দৃষ্টান্ত হবে- সে প্রত্যাশা মানবাধিকারে বিশ্বাসীদের।

প্রতিবেদক : বিশেষ প্রতিনিধি- পিএনএস

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন