‘করোনায় আমরা গরীব মানুষ কই যামু?’

  

পিএনএস ডেস্ক: ১০ থেকে ১২জন মানুষ বস্তির দোকানটাতে বসেছিলেন। চুলায় কেটলি আর এর মধ্যে একজন গল্প করছিলেন। গল্পের বিষয়বস্তু আর কিছু নয় করোনা ভাইরাস। বয়স্ক যিনি তার ভাষ্য মানুষ খারাপ হয়ে গেছে তাই এই ধরনের রোগ হচ্ছে। মানুষই এই রোগের জন্য দায়ী। চায়ের দোকানদার বললেন, ‘মানুষ এতো ভয় পাইছে যে অনেকে ঘর থেকেই বার হইতাছে না।’

করোনা ভাইরাসের আগ্রাসী ভূমিকায় কার্যত পুরো বাংলাদেশ স্থবির হয়ে পড়েছে। ভাইরাস ছড়াতে পারে সম্ভাব্য সব জায়গায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। জনসাধারণকে ঘর থেকে না বেরোনোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে নিম্নআয়ের মানুষ ইতিমধ্যেই বেশ বিপাকে পড়ে গেছে। করোনা মোকাবিলায় তাদের মধ্যে তেমন কোন প্রস্তুতি দেখা যায়নি।

সরকারের এই নির্দেশনা পর নারায়ণগঞ্জ শহরের নিম্নআয়ের মানুষের আনাগোনা বেশি এমন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারা দেশে যখন করোনা ভাইরাস একটি আতঙ্কের বিষয় ঠিক তাদের দেখলে উপায় নেই যে দেশে কোন ধরনের আতঙ্ক কাজ করছে।

নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন পাশে জড়সরো হয়ে বসে আছে নারী-পুরুষ এক সাথে। তারা খোলা আকাশের নিচে বসেই ভাত খাচ্ছেন। গাদাগাদি করে তারা একত্রেই কথা বলছেন, ভাত খাচ্ছেন, গল্পে মশগুল। মাস্ক কিংবা বাড়তি সতর্কতার কোন বালাই-ই নেই।

এক বৃদ্ধাকে করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করতে গেলে তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ কই যামু? আমাগো থাহারই জায়গা নাই, খাইতেও দেয়না কেউ! করুনা ওক আর যেইডাই আহুক আমাগো দেহার কেউ নাই, আমাগো আল্লায়ই দেখবো।

তবে রেললাইনের পাশের বস্তিতেই ফাতেমা বেগম নামে এক নারী মাস্ক পরে ঘুরছেন। তাকে মাক্স কেন পড়েছেন তা জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তর দেন, ওই যে দেশে যেন কি আইছে, হেরলাইগা এইডা পরছি। সবাই পড়ে তাই দেহাদেহি আমিও পড়ছি।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন