করোনায় বিপর্যস্ত স্পেনে ৭০ বাংলাদেশি আক্রান্ত

  

পিএনএস ডেস্ক: ইউরোপের দেশ স্পেনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সেইসঙ্গে ৭০ জন বাংলাদেশি আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

স্পেনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানান, ৭০ জনের মধ্যে মাদ্রিদে ৫৯, বার্সেলোনায় ৯ ও অন্য রাজ্যে দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে করোনাভাইরাসে স্পেনে একদিনে নতুন করে আরো ৮০৯ জন কোভিড-১৯ রোগী মারা গেছেন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা এখন ১১ হাজার ৯ শত ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এ হিসাব জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘রেড জোন’ এর ফলে এদের অধিকাংশই আয়-রোজগার বঞ্চিত হয়ে সপরিবারে দুর্বিষহ দিন যাপন করছে। স্থানীয় কমিউনিটির নেতাদের সহযোগিতায় বাংলাদেশি সামাজিক সংগঠন প্রায় ২ হাজার অসহায় ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে চাল, ডাল, তেলসহ অতি প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহের কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ দূতাবাসও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এরইমধ্যে দূতাবাস ৩শ’ অসহায় ব্যক্তির নাম সংগ্রহ করছে। শিগগিরই তা সরবরাহ করা হবে বলে জানান দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মুহাম্মদ মুহতাসিমুল ইসলাম।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে স্পেনে চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ তৃতীয় দফা বাড়ানো হয়েছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী দেশটিতে আরো দুই সপ্তাহ এ স্টেট অব এলার্ট চলবে।

দেশের জাতীয় সতর্কতার মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে স্পেন সরকার।

জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো শানচেজ বলেছেন, আমরা এখন আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সঙ্কটের মুখোমুখি।

জাতীয় সতর্কতার কারণে দেশটিতে মানুষের চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ রয়েছে। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। স্পেনের সরকার গত মঙ্গলবার এই জাতীয় সতর্কতার অনুমোদন চাওয়ার পর দেশটির পার্লামেন্ট তা অনুমোদন দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে বলেন, আরো দুই সপ্তাহ নির্জন ঘরে একাকী থাকা কতটা কঠিন তা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু এই সঙ্কটের মুখে এছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। আরো কয়েক সপ্তাহ এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রত্যেক পরিবারকে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। যারা তরুণ তারা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাও। যারা বয়স্ক মানুষ আছেন, আপনারা নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন। আপনারা এই মুহূর্তটিতে যা করার দরকার তাই করবেন।

মহামারি করোনার ভয়াবহতার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা কতটা শান্ত ও স্থির থাকতে পারি এই দিনগুলো সেই পরীক্ষাই নিচ্ছে। এই দিনগুলো হলো উন্মাদের মতো। এটা আমাদের নিজ নিজ পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে শঙ্কিত করেছে। আমাদের জীবনে এই দিনগুলোই সবচেয়ে কঠিন দিন।

এর আগে ১৩ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত প্রথম দফা এবং ২৬ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ২য় দফা বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটিতে আশঙ্কাজনক হারে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্টেট অব এলার্ট জারি থাকবে আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার (৪এপ্রিল) একদিনেই স্পেনে রেকর্ডসংখ্যক ৯৫০ জন মারা গেছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ হাজার ৯ শত ৪৭ জনে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৮ জন। এর মধ্যে ৬ হাজার জনকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ ইতালির পর স্পেনে এ ভাইরাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মানুষ মারা গেল। এদিকে স্পেনে এখন পর্যন্ত ৭০ প্রবাসী বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের একজন মারা গেছেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন