করোনা চিকিৎসায় তালিকায় শীর্ষে আনোয়ার খান মডার্ণ

  

পিএনএস ডেস্ক : দেশে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে নির্ধারণ করা ১২০টি হাসপাতাল রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘ন্যাশনাল হেলথ ফ্যাসিলিটি প্রিপেয়ার্ডনেস অ্যান্ড রেডিনেস র্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট চেকলিস্ট ফর কোভিড-১৯’ শীর্ষক তালিকায়। এরমধ্যে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৮ দশমিক ৯ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এরপর ৮৬ দশমিক ১ ও ৮৪ দশমিক ৪ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে লক্ষ্মীপুর সরকারি হাসপাতাল ও মিরপুরের মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট। তবে ওই তালিকার ৭১টি হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনাই সন্তোষজনক অবস্থানে নেই।
|
চেকলিস্টের স্কোর কার্ড অনুযায়ী, সবুজ তালিকায় রয়েছে মাত্র ৪৯টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। বাকি ৭১টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পিছিয়ে থেকে হলুদ ও লাল চিহ্নিত তালিকায় অবস্থান করছে। এর মধ্যে মোট স্কোরে ৩০-এর কম পয়েন্ট নিয়ে ১০টি হাসপাতাল আছে লাল চিহ্নিত তালিকায়। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো হলুদ চিহ্নিত তালিকায় অবস্থান করছে। যে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও খুব বেশি ভালো না।

র্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট চেকলিস্টের তথ্য মতে, কোভিড চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত এই ১২০টি হাসপাতালের অ্যাসেসমেন্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত আছে বেশকিছু আন্তর্জাতিক এজেন্সি। এর মধ্যে কনসার্ন ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ছয়টি, ইউনিসেফ পাঁচটি, ইউএনএফপিএ ও আইসিডিডিআর, বি যৌথভাবে ২২টি, ইউএনএফপিএ ও এসএনএফপি যৌথভাবে ১৪টি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০টি, ইউনিসেফ ও আইসিডিডিআর, বি যৌথভাবে ১০টি, ইএসএআইডি ও এমটিএপিএস যৌথভাবে ১৯টি এবং ইএসএআইডি ও এসসি যৌথভাবে ২৪টি হাসপাতালের সঙ্গে কাজ করছে।

এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে ১৬টি, সদর হাসপাতাল মানের প্রতিষ্ঠান ৫৯টি, মেডিকেল কলেজ ২০টি, উপজেলা হাসপাতাল ছয়টি, প্রাইভেট হাসপাতাল নয়টি এবং এনজিও ও অন্যান্য হাসপাতাল মিলিয়ে আরো ১০টি প্রতিষ্ঠান সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে শুধু কোভিড রোগী চিকিৎসার জন্য নিবেদিত আছে ১৯টি হাসপাতাল। বাকি ১০১টি প্রতিষ্ঠানে কোভিড রোগীদের সঙ্গে অন্য রোগীদেরও সেবা প্রদান চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তালিকায় লাল চিহ্নিত হাসপাতাল রয়েছে ১০টি। এগুলো হলো পিরোজপুর সদরের আম্বিয়া হাসপাতাল, ইউনাইটেড ক্লিনিক অ্যান্ড প্যাথলজি, মাজহারুল হক বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ডায়াবেটিক হাসপাতাল, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশন মার্কেট হাসপাতাল, আমিনবাজার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, মেঘদবি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, চর আলগি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, নোয়াখালী অন্ধ কল্যাণ চক্ষু হাসপাতাল ও বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টার (অস্থায়ী হাসপাতাল)।

তবে দেশে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত এসব হাসপাতালের অধিকাংশেরই চিকিৎসাসেবা নিয়ে আছে নানান প্রশ্ন। হাসপাতালগুলো ঘুরেও সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানান সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। এমনকি এখনো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে সেবা প্রদান চালু করতে পারেনি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এসব ব্যাপারে বরাবরই তাদের প্রস্তুতি ও তোড়জোড়ের কথা বলা হচ্ছে। তবে এতে হাসপাতালগুলোর দৃশ্যমান কোনো উন্নতির লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তাফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনা আরো উন্নত করা গেলে সেটা রোগী ও সেবা প্রদানকারী সবার জন্যই ভালো হবে। কিছু হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তুষ্টি আছে। সেটার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেয়া উচিত বলে মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। সূত্র: বণিক বার্তা

পিএনএস/এসআইআর


 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন