রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ঢাকা-বরিশাল রুটে বিমান চলাচল

  

পিএনএস ডেস্ক : রোববার ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট চালুর অনুমতি দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। শুক্রবার বেবিচক কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। অনুমতি পাওয়ার পর ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে সংশ্নিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো। কর্মকর্তারা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে আরও দুটি বিমানবন্দর রাজশাহী ও কক্সবাজারে চালুর প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, কভিড-১৯ মহামারি ঠেকাতে গত ২১ মার্চ থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় বেবিচক। তবে গত ১ জুন ঢাকা থেকে সৈয়দপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটে সীমিত পরিসরে ৭৫ শতাংশ যাত্রী নেওয়ার শর্তে ফ্লাইট চলাচলে অনুমতি দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বেসরকারি ইউএস বাংলা ও নভোএয়ারকে আসা-যাওয়া মিলিয়ে ৪৮টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা ছিল। কিন্তু যাত্রী সংকটের কারণে ১ জুন ঢাকা-সৈয়দপুর-ঢাকা রুটে দুটি ফ্লাইট চালানোর পর বন্ধ হয় বিমানের অভ্যন্তরীণ সব রুটের ফ্লাইট। ১১ জুন থেকে যশোরে ফ্লাইট চালু হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এ কারণে এতদিন চালু করা হয়নি ঢাকা-বরিশাল, রাজশাহী ও কক্সবাজার বিমানবন্দর। কিন্তু সংশ্নিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর মালিকদের আশা- আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ রুটে যাতায়াত বাড়বে যাত্রীদের।

এ ব্যপারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জানান, 'এয়ারলাইন্সগুলোর চাহিদার কারণে ঢাকা-বরিশাল রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। আগামী রোববার থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে সংশ্নিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো।' তিনি আরও বলেন, দেশের আরও দুটি বিমানবন্দর রাজশাহী ও কক্সবাজার চালুর প্রস্তুতি চলছে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে পর্যায়ক্রমে এ দুটি বিমানবন্দর চালুর সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্মকর্তারা জানান, বেবিচকের নিয়ম নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতিটি ফ্লাইটে ৭৫ শতাংশ যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী ৭৪ আসনের উড়োজাহাজে ৫০ জনের মতো যাত্রী বহন করার কথা। সেখানে প্রতি ফ্লাইটে যাত্রী মিলেছে গড়ে ২৭-৩০ জন। এ সময়ে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। প্রথম দিকে টিকিটের মূল্যে ছাড় দিয়ে যাত্রী পাওয়ার চেষ্টা করেছিল বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো। কিন্তু যাত্রীদের ভীতি দূর হয়নি। পরে সব রুটেই সর্বনিম্ন ভাড়া দুই হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু যাত্রী না পাওয়ায় লোকসানের বোঝা ভারী হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম জানান, 'আসন্ন কোরবানির ঈদের আগে বরিশাল, রাজশাহী ও কক্সবাজার বিমানবন্দর চালু হলে এয়ারলাইন্সগুলোর লোকসানের ক্ষতি কিছুটা কমার সম্ভবনা আছে। বিদেশ থেকে দেশে কম যাত্রী আসছেন। তা ছাড়া দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হয়নি। তবে কোরবানির ঈদে দেশের অভ্যন্তরীণ আকাশপথে বিভিন্ন যাত্রীর যাতায়াত বাড়বে।'

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন