এইচএসসি পাস করে ভুয়া ডাক্তার, অতঃপর...

  

পিএনএস ডেস্ক: রাজধানীর ডেমরায় র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ভুয়া চিকিৎসকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের জেল জরিমানা ও হাসপাতালটিকে সিলগালা করে দেওয়া হয়।

রোববার (১২ জুলাই) বিকাল ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ডেমরার হাজীনগরের এসএইচএস হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক্সে র‍্যাব-৩, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ওষুধ প্রশাসনের সহায়তায় অভিযানটি পরিচলিত হয়।

র‍্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে অভিযানে হাসপাতালের মালিক শওকত হোসেন সুমনকে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও ২ বছরের জেল অনাদায়ে আরো ২ মাসের কারদণ্ড দেওয়া হয়।

র‍্যাব সূত্র জানায়, ভুয়া ডাক্তার সুমন প্রকৃতপক্ষে এইচএসসি পাস। প্যারামেডিক্যাল কোর্স করে নিজেকে ডাক্তার পরিচয়ে তিন বছর ধরে ডেমরায় হাসপাতাল পরিচালনা করছেন তিনি।

এছাড়া শওকত ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ঢাকা মহানগরের যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী একটি আসন থেকে নির্বাচনও করেন। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর দুমকি থানা এলাকায়।

র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু বলেন, করোনার এই ভয়াবহতার মধ্যেও মানুষ ঠকানো বন্ধ হচ্ছে না। বরং নতুন নতুন কায়দায় এসব হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা ভুয়া ডাক্তার শওকত হোসেন সুমন তিন বছর ধরে হাসপাতালটি প্রতারণামূলকভাবে পরিচালনা করে আসছে। এদিকে গত দেড় বছর আগেই হাসপাতালালের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ডাক্তার হিসেবে তার কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। সুমনের আরো চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ওইসব প্রতিষ্ঠানেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।

র‍্যাব জানায়, অভিযানে হাসপাতালের ল্যাব টেকনোলজিস্ট অসীম মণ্ডলকে ভুয়া রিপোর্টে সহযোগিতা করায় ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের জেল দেওয়া হয়। ফার্মেসি পরিচালক মো. কাকন খানকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এসময় নিষিদ্ধ ওষুধের বড় চালানসহ, যৌন উত্তেজক ওষুধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন ওষুধ জব্দ করা হয়। হাসপাতালের ল্যাবে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট করানো হতো এবং টেস্টের রিপোর্ট বিভিন্ন নামে সে নিজেই দিতেন।

পিএনএস/এএ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন