'আপনারা কথা বলতে না পারলে চুপ করে থাকুন'

  

পিএনএস ডেস্ক: নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, রাজনীতি মানে পা চাটা নয়। আর পা-চাটা চামচারা কখনোই বুদ্ধিজীবী হতে পারে না, আপনারা কথা বলতে না পারলে চুপ করে থাকুন। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘আটকে পড়া শব্দরাজি’র উপর এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ছাত্রসমাজের কোটা সংস্কারের আন্দোলন নিয়ে মান্না বলেন, বিগত ৯ বছরে এত বড় আন্দোলন হতে দেখিনি। সাধারণ ছেলেমেয়েদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে সব কিছুর অধিকার প্রতিবাদের মাধ্যমে আদায় করতে হয়। তবে, আন্দোলনের শেষে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে ‘মাদার অব এডুকেশন’ নামে ঘোষণা করা হয়েছে। এটা বড়ই দুঃখজনক।

তিনি শিক্ষার জন্য কি করেছেন! ছাত্রদের জিজ্ঞেস করতে হবে, আপনারা কি কোটা বাতিল চেয়েছিলেন না কি সংস্কার চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তো কোটা বাতিল করলেন, সত্যিকারেই কি তিনি বাতিল করেছেন?

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক আরো বলেন, আজকে দেখলাম পুলিশ বলেছে, ঢাবি ভিসির বাসভবনে যে হামলা হয়েছে তা না কি পরিকল্পিত ছিল। তাহলে হাজার অজ্ঞাতনামার নামে কেন মামলা হলো, ছাত্রদের নামে কেন মামলা হলো। মতিয়া চৌধুরী যখন সংসদে বলেন, যারা আন্দোলন করছে সব রাজাকারের বাচ্চা তখন আমার মাথা নষ্ট হয়ে যায়। আমি ছাত্রদের বলব আপনারা কারো কাছে মাথা নত করবেন না। সাময়িক চাপ উপেক্ষা করে বাস্তবতা বুঝেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ছাত্রলীগের যেকোনো নেতার অপকর্ম ধরা পড়লেই তখন বলা হয় এই নেতাকে তো ছাত্রলীগ থেকে দুই/তিন মাস আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের অপকর্ম ঢাকতেই এসব কথা বলে থাকে।

সাবেক এ ছাত্র নেতা বলেন, আমি দুটো উপন্যাসই জেলের ভেতরে বসে লিখেছি। কেমন হয়েছে তা আমি বলতে পারবো না। আমার এ উপন্যাসটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ঘিরেই। তবে, প্রতিবাদ ও লেখালিখিতে সাহিত্যিকদের পাশাপাশি রাজনীতিবিদদের এগিয়ে আসতে হবে। সাহিত্য মানে পুতুপুতু করা নয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ভালো রাজনীতিবিদদের ভালো সাহিত্যিক হতে হবে। তারা এগিয়ে না আসলে তরুণ প্রজন্ম কাদের কাছ থেকে ইতিহাস জানবে।

লেখক মাহমুদুর রহমানের আটকে পড়া শব্দরাজির বইয়ের প্রশংসা করে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তার প্রশংসাও করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, এখন যারা লেখালেখি করেন তারা মূলত কারো মন জয় করার জন্য লিখে থাকেন। কিন্তু মাহমুদুর রহমান মান্না নিজের জীবনে যা দেখেছেন তাই তার বইতে লিখেছেন। কারো মনোরঞ্জন করার জন্য এই উপন্যাস তিনি লেখেননি। তার উপন্যাসে স্বজনপ্রীতি দুর্নীতি গুম সবই পাওয়া গেছে। এই উপন্যাসে বাংলাদেশকে অনেকাংশেই তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমি যখন কিছু লিখতে যাই তখন আমার মাথায় রাখতে হয় ধর্মীয় চেতনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বর্তমান সরকার কিংবা একটা পরিবারের বিরুদ্ধে অবমাননা হয় কি না। এত কিছু মাথায় রেখে ভালোভাবে লেখা যায় না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কবি ও সাংবাদিক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, দালাল ভণ্ড প্রতারকরা বর্তমানে সাহিত্যের সিংহাসনে বসে আছে। আমাদের সাহিত্যিকরা রাজনীতিবিদদের পা চাট?ছে। আমাদের দেশে বর্তমান সাহিত্য আবর্জনায় ভরে গেছে। এটাকে উদ্ধার করতে হবে। তিনি বলেন, এ প্রকাশনা উৎসবে প্রকাশকের অবশ্যই প্রশংসা করা উচিত। সরকারের অনেক বাধা-নিষেধ সত্ত্বেও প্রকাশক এই বইটি প্রকাশ করেছেন। আর মাহমুদুর রহমানও আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। তিনি আটকে পড়া শব্দগুলোকে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েরর অধ্যাপক একেএম শাহনাওয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গওহর নাঈম ওয়ারা, অনন্যা প্রকাশনীর কর্ণধার মনিরুল হক প্রমুখ।

পিএনএস/আলআমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech