কেন্দ্রীয় কমিটিতে কারা আসছেন? চলছে জল্পনা-কল্পনা!

  

পিএনএস ডেস্ক: ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলনে শেষ হলেও কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। কাউন্সিল অধিবেশনে ছাত্রলীগের গঠনতান্ত্রিক সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর নেতৃত্ব বাছাইয়ের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে কারা আসছেন, এ নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এখন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। দুই-একদিনের মধ্যে তার নতুন কমিটি ঘোষণা করার কথা।

ছাত্রলীগের এবারের সম্মেলনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় তিনশ'। তবে বিদায়ী ছাত্রলীগ নেতারা সেই লম্বা তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে সংক্ষিপ্ত একটি তালিখা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন নেতাও এই তালিকা তৈরির প্রক্রিয়ায় ছিলেন। অবশ্য এর আগেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পদপ্রত্যাশীদের সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেও। সে অনুযায়ী নিজস্ব একটি প্রার্থী তালিকাও রয়েছে তার কাছে। ২ মে সংবাদ সম্মেলন এবং শুক্রবার ছাত্রলীগের সম্মেলন উদ্বোধনের পর রাতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এখন এসব তালিকা থেকে আরও অধিকতর যাচাই-বাছাই করেই ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নেতা বেছে নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের বৃহত্তম ছাত্র সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব ভোটের মাঠকে প্রভাবিত করবে স্বাভাবিকভাবেই। তাই নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পরিশ্রমী, ত্যাগী, মেধাবী, নিয়মিত ছাত্র, সাহসী, শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয়, পরিচ্ছন্ন ইমেজ ও সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন এবং যারা অতীত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন- তাদের মধ্য থেকেই শীর্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা রয়েছে। বিশেষ করে অতীতের কমিটিগুলোতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠায় এবার কোনো অবস্থায়ই যেন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটতে না পারে- সে দিকটাতেই বেশি নজর দেওয়া হচ্ছে।

ছাত্রলীগের নতুন কমিটি প্রসঙ্গে রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগের কমিটির শীর্ষ পদে যাতে কেউ অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য অধিকতর যাচাই-বাছাই চলছে। তড়িঘড়ি করে ছাত্রলীগের কমিটি করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী যথাসময় এ কমিটি ঘোষণা দেবেন।

তিনি আরো, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে নামের যে তালিকা গেছে, তাতে নারীদের নামও আছে। তবে সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে।

ক্ষমাতাসীন দলের হাই কমান্ড সূত্রে জানা গেছে, নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান দুই পদ প্রত্যাশীদের সংক্ষিপ্ত তালিকার মধ্যে সাত জনের নাম রয়েছে দলীয় সভানেত্রীর গুডবুকে। তারা প্রত্যেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এই সাত নেতার মধ্য থেকেই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

আলোচিত সাত নেতা হলেন- বিদায়ী কমিটির সহসভাপতি আদিত্য নন্দী, চৈতালী হালদার চৈতী, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক শেখ ইনান, হোসাইন সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং ঢাবি শাখার সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স। তবে আলোচিত এই সাত নেতার মধ্যে দু'জনের বিরুদ্ধে সামাজিক অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে প্রমাণাদি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে।

ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধনকালে গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২৮ বছরের বয়সসীমা বেঁধে দিলে এই তালিকার দুই-একজনের বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় ওই রাতে গণভবনে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বয়সসীমা ২৯ বছর করার কথা জানিয়ে দেন বলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেছেন। তবে ছাত্রলীগের বিদায়ী সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা এমন দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন।

পিএনএস/আল-আমীন

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech