রাস্তায় নামার নেতৃত্ব বিএনপিকেই দিতে হবে: নোমান - রাজনীতি - Premier News Syndicate Limited (PNS)

রাস্তায় নামার নেতৃত্ব বিএনপিকেই দিতে হবে: নোমান

  

পিএনএস : বিরোধীদলের কাছে কখনো অস্ত্র-বোমা ছিল না জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, হাতে একটা লাঠি আর ইটের টুকরা ছিল। সেটা দিয়েই আইয়ূব খানের স্বৈরশাসন, ইয়াহিয়া খান, এরশাদকে পরাজিত করেছি। পরাজিত করেছি আরও অনেক শাসকগোষ্ঠিকে। আজকের পরিস্থিতিও ভিন্ন নয়। রাস্তায় না নামলে কোনো আন্দোলনই সফল হবে না। আর রাস্তায় নামার নেতৃত্ব বিএনপিকেই দিতে হবে।

সোমবার (২১ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের মুক্তির দাবিতে এই মুক্ত আলোচনার আয়োজন করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন।

নোমান বলেন, জনসাধারণ যখন রাস্তায় নামবে তখন আমাদের নেত্রী বের হবেন। আমরা জয়লাভ করতে পারবো। আমরা ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবো, খুলনা মার্কা নির্বাচন আর হতে দেব না। এজন্য এই নির্বাচন কমিশনকে বাতিল করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে ইস্তফা দিয়ে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এটা আমাদের লক্ষ্য-আন্দোলনের একটা অংশ। তিনি বলেন, আমাদের কথা কম, কাজ অনেক বেশি। এটা আমরা সকলে অনুভব করছি। কিন্তু প্রয়োগে আছি কি না জানি না। আলোচনারও বেশি দরকার নেই। এক দফা এক দাবি হাসিনা তুমি কবে জাবি।

খুলনার নির্বাচনে জালভোটের পরিবর্তে ভোটদখল স্তরে চলে গেছে উল্লেখ করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, এই অবস্থাকে সহযোগীতা করছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশন সরকারের আজ্ঞাবহ। সরকার যা বলবে সেটাই কমিশন করবে। কমিশনের আইনে এবং সংবিধানে কমিশনের যে শক্তি তাদের যে নির্বাচন পরিচালনায় তারা যে নেতৃত্বপ্রদানকারী, সেটা তারা করছে না। তারা সরকারের লেজুরবৃত্তি করছে।

বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন একটা আইন প্রণিত হয়েছে যে, যখন মনে করবে দুর্যোগ আসছে সমস্যা হচ্ছে, তখন সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে সমস্ত বাহিনী ও অরগানগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। তখন তারা যে ডিসিশন নেবে সেটা কার্যকর হবে। এটার ডিসিশনটা দেবে দেশের প্রধান নির্বাহী অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তার যে সাংগঠনিক ক্ষমতা আছে এগুলো ছাড়াও তিনি যেকোনো সময় আমাদের ওপরে সাংবিধানিকভাবে সেটা চাপিয়ে দিতে পারবেন। তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি আওয়ামী লীগ উলঙ্গ হয়ে গেছে। এটা বলার কারণ, যারা গণতন্ত্রকে ধংস করে লজ্জাবোধ করে না। তারা লজ্জাহীন, তারা উলঙ্গ। কাজেই আজকের এই উলঙ্গ সরকারকে শায়েস্তা করার জন্য ভোটাধিকার বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন সংগ্রামের কোনো বিকল্প নাই। খালেদা জিয়া, শফিউল বারী বাবু অথবা শিমুল বিশ্বাস এদেরকে কারাগারে নিয়েছে কারাগার থেকে বের করার জন্য নয়। কারাগারে নিয়ে যায় শাসক আর বের করে জনতা। আজকে সেই জনতা নেত্রীকে বের করবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এবং দপ্তর সম্পাদক গোলাম সরোয়ারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, বগুড়া জেলা বিএনপি’র শিশু বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, মৎস্যজীবি দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া, সাবেক ছাত্র নেতা সুলতান মোঃ নাছির, জিনাফ সভাপতি মিয়া মোঃ আনোয়ার, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সহ-সাধারন সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, ছাত্রদল দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, তারেক একাডেমির সভাপতি পলাশ মন্ডল প্রমূখ।

পিএনএস/মোঃ শ্যামল ইসলাম রাসেল

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech