অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগের মিশন ফাঁস!

  

পিএনএস ডেস্ক : আওয়ামী লীগের অন্যতম ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগকে পরিকল্পিতভাবে জঙ্গি সংগঠনে পরিণত করার টার্গেট ছিল অনুপ্রবেশকারীদের। ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি সারাদেশে বিভিন্ন শাখা কমিটিতে শিবির, ছাত্রদল, একাত্তরের পাকবাহিনীর সহায়তায় গঠিত শান্তি কমিটির সন্তান-স্বজনসহ স্বাধীনতাবিরোধী মতাদর্শের ছাত্রদের ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে। কথিত সিন্ডিকেটকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে ছাত্রলীগে তারা অনুপ্রবেশ করেছে।

শুধু তাই নয়, এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ পদ প্রত্যাশীদের অনেকেই শিবির-ছাত্রদল ও শান্তি কমিটির সন্তান-স্বজন। এ কারণে সম্মেলনের ১১ দিন পরও কমিটি ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। সূত্র জানায়, সম্প্রতি অওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠকে আলোচনাকালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ছাত্রলীগকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু আমি বেঁচে থাকতে সেটা হতে দেবো না।’

জানা গেছে, ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনে সতর্ক আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে ইতোমধ্যে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রণয়ন করেছেন শেখ হাসিনা। আরো যাচাই করতে গণভবনে ২০ পদ প্রত্যাশীকে ডেকে কথা বলবেন তিনি। নেতা হিসাবে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আগে তাদের রাজনৈতিক মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতার পরীক্ষা নিতে চান শেখ হাসিনা। সব কিছু ঠিক করে আগামী সপ্তাহে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

ছাত্রলীগের অভিভাবক ও সাংগঠনিক নেত্রী হলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন শেষ হলেও এখনো ঘোষণা করা হয়নি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম।

সম্মেলনের প্রথম দিন সমঝোতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচনের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। পরের দিন কাউন্সিল অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষমতা শেখ হাসিনার ওপর অর্পণ করা হয়। এক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠিয়ে দেয় ছাত্র সংগঠনটি।

সেইদিন থেকেই ঘোষণার অপেক্ষায় গণভবনের দিকে তাকিয়ে পদ প্রত্যাশীরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সব কিছু যাচাই-বাছাই করছেন। ৩২৩ পদ প্রত্যাশীর অতীত, পারিবারিক পরিচয়সহ জীবনবৃত্তান্ত এবং সাংগঠনিক ও গোয়েন্দা সংস্থার ৫ স্তরের রিপোর্ট মিলিয়ে দেখছেন তিনি।

একটি চক্রের ছাত্রলীগকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই বেশি চলছে। ২০০৬ সাল থেকে সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংগঠনটির সাবেক নেতাদের একটি অংশ ভোটের নিয়ন্ত্রণ শুরু করে।

তখন থেকে তারা ‘সিন্ডিকেট’ বা নিয়ন্ত্রকগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিতি পান। তারা সারা দেশে পছন্দের ব্যক্তিদের ভোটার করে অনুগতদের নেতা নির্বাচন করে আসছিলেন। এক সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় সংগঠনে অনুপ্রবেশ করেছে অসংখ্য স্বাধীনতাবিরোধী মতাদর্শী। বিগত কমিটির প্রধান দুই নেতার মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে শিবিরের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তাই এবার সবকিছু চূড়ান্ত হবার পরও প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণায় বিলম্ব করছেন। এই বিলম্বের মূল কারণ হলো, ছাত্রলীগে যেন আর অনুপ্রবেশকারী না ঢোকে। ছাত্রলীগকে কেউ যেন বিপথে নিয়ে যেতে না পারে। সূত্র জানায়, বাছাইয়ে যাদের নাম সামনে এসেছে, অধিকাংশের বিরুদ্ধেই কোনো না কোনো অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় সমালোচনা নেই, এমন নেতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এবার ছাত্রলীগের সম্মেলনের আগে থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর বিষয়টি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে মূল দলের পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনেও ব্যাপকভাবে বিরুদ্ধ রাজনৈতিক দর্শনের অনুসারীদের অনুপ্রবেশের অভিযোগ আছে। এরা নানা বিতর্কিত কাজ করে বারবার সংগঠনকেও বিতর্কের মুখে ফেলে। এ ছাড়া এ সময়ে ছাত্রলীগের বহু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেই সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে।

এ সব ঘটনায় নানা সময়ই বিরক্তি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ দিকে সম্মেলনের আগে ‘নতুন মডেলের’ ছাত্রলীগের কথা জানিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের নেতাদের জানান, পদ প্রত্যাশীদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়ার পাশাপাশি তাদের বংশের পরিচয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর মধ্যে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার কাছে সংক্ষিপ্ত তালিকা যাওয়ার পর তাদের বেশ কয়েকজনের নামেই সামাজিক মাধ্যমে নানা কথা ছড়িয়েছে।

কারও বিরুদ্ধে ব্যবসা করা, চাকরি করা, বিয়ে করা, কারও স্বজনদের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে নানা কথা ছড়ানো হচ্ছে। তবে বিষয়গুলো একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে অনেক অভিযোগের সত্যতাও মিলছে।

এবার ছাত্রলীগের সম্মেলনের আগে সভাপতি পদে ১১১ জন সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ২১২ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। তবে বয়সের কারণে ও কারো কারো প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কারণে সর্বশেষ সভাপতি পদে ৬৬ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৬৯ জনের নামের তালিকা এবং তাদের জীবনবৃত্তান্ত শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক চূড়ান্ত করার পরও প্রধানমন্ত্রী অপেক্ষা করছেন। মূলতঃ তিনি দুটি বিষয় দেখতে চেয়েছেন। প্রথমত; সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না, অভিযোগগুলো অদৌ সত্য কি না। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কার ব্যাপারে কত উত্সাহী?

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, ছাত্রলীগের কমিটির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের নেতাদের উত্সাহ কম নয়। বেশ কজন নেতা আছেন যারা তাদের পছন্দের ছেলে-মেয়েদের কমিটিতে রাখতে চান।

সূত্র: ইত্তেফাক

পিএনএস/জে এ

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech