অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে কোনঠাঁসায় মূলধারার ছাত্রলীগ, নিয়ন্ত্রন মালয়েশিয়া থেকে!

  

পিএনএস (জে এ মোহন) : অনুপ্রবেশ নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলীগে বির্তক চলছে অনেক দিন থেকেই। তবে এই বির্তকের সঠিক সূরাও এখনো করতে পারেনি দলটি। আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে ছাত্রলীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ রয়েছে। তবে দল পরিবর্তন নতুন কিছু না হলেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পর ক্ষমতাশীল আওয়ামীলীগে অনু্প্রবেশ নিয়ে বির্তকের তুঙ্গে।

আওয়ামী লীগের অন্যতম ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগে পরিকল্পিতভাবে প্রবেশ করেছে কথিত অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগ।

ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি সারাদেশে বিভিন্ন শাখা কমিটিতে শিবির, ছাত্রদল, স্বাধীনতাবিরোধী মতাদর্শের ছাত্রদের ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে। কথিত সিন্ডিকেটকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে ছাত্রলীগে তাদের অনুপ্রবেশ করিয়েছে।

বর্তমানে কথিত অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগের কারণে কোনঠাঁসায় রয়েছে মূল ধারার ছাত্রলীগ কর্মীরা। সূত্র জানায়, অনুপ্রবেশকারীদের টাকা আর লবিংয়ের কারণে দলের মধ্যে যারা বঙ্গবন্ধুর আর্দশ নিয়ে ছাত্র রাজনীতি করেন তাদের অনেকটাই দূরে রাখা হচ্ছে। কৌশলে তাদের কোনঠাঁসা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, আবার এই অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ন্ত্রন করছে ছাত্রশিবিরে একটি অংশ। যারা ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকেই মালয়েশিয়া থেকে ছাত্রশিবিরের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছে। এবং তারা ছাত্রলীগে কৌশলে প্রবেশ করাতে কাজ করছে। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তাদের বিরাট একটি অংশ কাজ করছে।

সূত্র জানায়, কিছু দিন আগে রাজধানীর একটি নামকরা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টলে এক ছাত্রশিবির কর্মীকে রুমে আটকে মারধর করে ছাত্রলীগের কিছু কর্মীরা। সেই সময় আর কেউ আছে কি না জিজ্ঞসা করলে ঐ ছাত্রশিবির কর্মী যাদের নাম বলে, তাদের নাম শুনে ভয়ে ঐ কর্মীরা তার কাছে মাপ চেয়ে ছেড়ে দেন। এবং তাকে অনুরোধ করেন তাদের বড় ভাইদের না বলতে। যাদের নাম বলা হয়েছে তাঁরা সেই মেডিক্যাল ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

কিছু দিন আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে নিয়ে বাঙ্গালী একটি ছেলে বই লিখেছে। তাকে নিয়ে বেশ আলোড়ন তৈরি হয় বাংলাদেশি মিডিয়ায় । তবে তিনিও তা'মীরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সাবেক ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং বিএনপি জামায়াত সরকার সময় ঢাকার মাঠ কাঁপিয়েছিলেন ।

মালয়েশিয়া থেকে ছাত্রশিবিরের যে অংশটি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ন্ত্রন করছে সেই অংশটি ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পূর্বে দাপটে ছিল। এখন তাঁরা অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে নিয়ন্ত্রন রাখছে ছাত্রলীগকে। সূত্র জানায়, সুযোগের অপেক্ষায় থাকা এসব অনুপ্রবেশকারী ছাত্রলীগের মাধ্যমে দেশে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটাতে পারবে এই অংশ। কিছু দিন আগে এর প্রতিফলণ কোটা বিরোধি আন্দোলনে দেখা গেছে। কোটা বিরুধী আন্দোলনে মালয়েশিয়া থেকে ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশকারীদের দিয়ে আন্দোলনকে আরও কার্যকর করেছে ছাত্রশিবির। ঐ দিন রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের ধাওয়া খেয়ে পালিয়েছিলেন।

সূত্র জানায়, আশির দশকের এক ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বর্তমানে তিনি বিএনপির বড় নেতা। তিনি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় এক নেতার মাধ্যমে বেশ কিছু কাজ করিয়েছেন।

এছাড়াও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের পরে বিএনপির টানা অবরোধ কর্মসূচির সময় নাশকতায় এবং প্রেট্রোলবোমা কার্যক্রমে বেশ ভুমিকা রেখেছে তাঁরা।

শুধু যোগদান নয়, এই যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের অনেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে পদ-পদবি বাগিয়ে নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগে আগে যাঁরা বিভিন্ন কমিটির পদে ছিলেন, তাঁদের হটিয়ে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিচ্ছেন। একদা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এই নেতাকর্মীরা টার্গেট করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে রাতারাতি হয়ে যাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোক। বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানকারীদের দলীয় পদ-পদবি দেওয়ার ক্ষেত্রে উদারতা দেখিয়েছে আওয়ামী লীগও।

বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান ঘটেছে মূলত দুটি পর্যায়ে। প্রথম পর্যায় হলো ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর। আর দ্বিতীয় পর্যায় হলো ২০১৪ সালে চারদলীয় জোট যখন সরকারবিরোধী সহিংস আন্দোলনে ব্যর্থ হয় তার পর।

 

@PNSNews24.com

আপনার মন্তব্য প্রকাশ করুন
Developed by Diligent InfoTech